রমজান প্রতিটি মুসলমানের জন্য আনন্দ নিয়ে আসে। প্রতি বছরের মতো এ বছরও পৃথিবীর দেশে দেশে আনন্দ-উৎসবে রমজান শুরু হয়েছে। করোনার কারণে সারা বিশ্বে পরিবেশ অস্বাভাবিক হলেও অস্ট্রেলিয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে প্রতি বছরের মতো মুসলমানদের মনে পবিত্র রমজানের পুণ্যময় আবহ কাজ করছে।
সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে মুসলমানদের বেশি বসবাস। সিডনির ল্যাকেম্বা, গ্রিনএকর, ব্যাঙ্কসটাউন, অবার্নের মতো এলাকাগুলোতে রোজার আমেজ অনেক বেশি দেখা যায়। ইফতারের সময়, তারাবিপূর্ব ও তারাবি পরবর্তী সময়ে এ এলাকাগুলো যেকোনো মুসলিম অধ্যুষিত জনপদ থেকে পৃথক করার উপায় নেই।
ইফতারের আগে বিক্রেতারা দোকানের সামনে ইফতারির রকমারি পসরা সাজান। এ সময় দোকানিরা ক্রেতা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খান। আমাদের দেশীয় ইফতার সামগ্রীর মধ্যে জিলাপি, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি ইত্যাদিও পাওয়া যায়। বিক্রি হয় এরাবিয়ান নানা উপাদেয় খাবার।
রমজানে এসব এলাকার মসজিদগুলো তারাবির সময় পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিটি মসজিদে ইফতার ও রাতের খাবার এবং মাঝেমধ্যে সাহরিরও আয়োজন করা হয়। মসজিদে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে হলরুম ভাড়া করেও তারাবির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় তারাবির ইমামতি করতে বিভিন্ন দেশ থেকে আলেম, হাফেজ ও ক্বারিরা আসেন। বিশেষ করে মিসর ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকেই এখানে নিয়মিত আসেন। অস্ট্রেলিয়ার অনেক মসজিদেই বিশ রাকাত তারাবির নামাজ হয়। নামাজ শেষে তেলাওয়াতকৃত অংশের সংক্ষিপ্ত তাফসিরও করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার মুসলমানদের ইফতার আয়োজন
অস্ট্রেলিয়ায় ঈদের সময় ভিন্ন আমেজ ও আবহ চোখে পড়ে। শপিংমলগুলোতে ঈদের অনেক আগে থেকেই কেনাকাটার ধুম চলে। মুসলিমদের পরিচালিত দোকান ছাড়াও অমুসলিমদের দোকানগুলোও ঈদ সামনে রেখে পণ্যের নানা সমারোহ ঘটায়। শপিংমলে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানার শোভা পায়।
প্রতিটি মসজিদে ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন পার্ক বা ইনডোর খেলার মাঠে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় রোজা উপলক্ষে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন না এলেও মুসলমান স্কুলগুলোতে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এসব স্কুলের ক্যান্টিনগুলো বন্ধ থাকে। সাধারণ সময়সূচির প্রায় দুই ঘণ্টা আগে স্কুল শেষ হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাদের ইসলামিক কৃষ্টি ও কালচারে অভ্যস্ত করতে কোরআন প্রতিযোগিতা, ক্লাসরুম ডেকোরেশন ইত্যাদি কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে।
অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে মুসলমানদের একটি অংশ অমুসলিমদের মধ্যে লিফলেট, কোরআনের অনুবাদকৃত কপি, রাসুল (সা.)-এর জীবনী, ইসলামে নারীর অধিকার ইত্যাদি বিষয়ক গ্রন্থ, পুস্তিকা কিংবা লেখাসমৃদ্ধ প্রচারপত্র বিতরণ করে থাকে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত সংগঠন ওচউঈ (ইসলামিক প্র্যাকটিস ও দাওয়া সার্কেল) এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবার তারা একটি ইনডোর খেলার মাঠে ইফতারের আয়োজন করে। গত বছর তারা এ প্রোগ্রামে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের আমন্ত্রণ করেন। গত কয়েক বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুসলমান নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী ভবনে ইফতারির আয়োজন করেছেন।