খুলনায় অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন সহস্রাধিক মোটরশ্রমিক

করোনা পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় খুলনার ফুলতলা উপজেলায় বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকের সহস্রাধিক শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছে। সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ পাননি তারা। ফলে প্রায় দেড় মাস ধরে শ্রমিকরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

শ্রমিকরা জানান, ফুলতলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অধীনে ফুলতলা থেকে জেলার চুকনগর, শাহপুর ও খুলনা শহর পর্যন্ত ও যশোরের নেওয়াপাড়া পর্যন্ত বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এই কাজে নিয়োজিত এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক। গত ২৬ মার্চের পর থেকে সব রুটে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে কর্মহীন হয়ে পড়ে এই শ্রমিকরা।

মহেন্দ্র চালক কামাল হাওলাদার বলেন, দেড় মাস ধরে কোনো ত্রাণ পাইনি। আমরা সংসার চলছে না, তাহলে খাব কী?

পরিবহনের স্ট্যাটার (গাড়ির সিরিয়াল লেখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি) হান্নান সরদার বলেন, বাবা-মা, ভাই-বোন ও বৌ-সন্তান নিয়ে পরিবারে লোকসংখ্যা ৮ জন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। বড় ভাই দুর্ঘটনায় পড়ে অসুস্থ। কাজ নেই দেড় মাস। এ পর্যন্ত কেউ ত্রাণ ও দেয়নি। 

ফুলতলা শাখা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সনজিৎ বসু  বলেন, আমাদের ১ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় ২ মাস ধরে তাদের কাজ নেই। জমানো টাকা শেষ। এর মধ্যে গুটিকয়েক শ্রমিককে স্থানীয় সাংসদ ৫ কেজি করে আটা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া আর কেউ কিছু দেয়নি। শ্রমিকরা এখন না খেয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসেছে।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ পিন্টু বলেন, করোনায় প্রায় দেড় মাস কর্মহীন হয়ে পড়েছে ফুলতলা এলাকার বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকের সহস্রাধিক শ্রমিক। ফলে এসব অসহায় মোটর শ্রমিক পরিবার অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি ত্রাণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দফায় দফায় শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, নাগরিকত্ব সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোনো ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা দেয়নি। এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে।

ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভীন সুলতানা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে এই সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা যায়।