মেসভাড়া মওকুফের দাবি বেরোবি শিক্ষার্থীদের

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে লকডাউন চলছে দেশজুড়ে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব গণপরিবহন। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) টিউশনিনির্ভর শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত তাদের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসিদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, চলমান অবস্থা বজায় থাকলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর প্রায় সাত মাস মেসে না থেকেও ভাড়া দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসা এসব শিক্ষার্থীর চোখেমুখে তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অসহায়ত্বের ছাপ।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেরোবিতে অধ্যয়নরত ৮০ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। যাদের অধিকাংশই রংপুর শহরে টিউশনি কিংবা পার্টটাইম জব করে নিজেদের পড়ালেখার খরচ মেটানোর পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। কিন্তুচলমান পরিস্থিতিতে উপার্জন বন্ধ হওয়ায় অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটানো এসব শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পক্ষে মেস ভাড়া দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।এমন অবস্থায় মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তারা।

বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষার্থী জানান,করোনাভাইরাসের কারণে আমার দিনমজুর বাবা কাজে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে আমার টিউশনিও বন্ধ।ঘরে চাল-ডালও শেষ।অনেক কষ্টে সংসার চলছে।এদিকে মেসমালিক এপ্রিল মাসের ভাড়ার জন্য বারবার তাগিদ দিচ্ছেন। যেখানে পরিবারের খাবার জোগাতে পারছিনা সেখানে মেস ভাড়া কীভাবে দেব ভেবে পাচ্ছিনা।

মেস ভাড়া মওকুফের অনুরোধ জানিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ফেইসবুকে চিঠি লেখেন সামাজিকবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এসএম রানা। চিঠিতে তিনি লেখেন, চলমান পরিস্থিতিতে মেসে না থাকলেও মেস ভাড়া দেওয়ার জন্য মালিকরা তাগিদ দিচ্ছেন, চাপ সৃষ্টি করছেন।

তবে ভাড়া মওকুফের বিষয়টি নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মেস মালিকরা।ইতিমধ্যে আশা ছাত্রাবাসের মালিকের পক্ষ থেকে সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া মওকুফের বিষয়টি উল্লেখ করে কয়েকজন মেস মালিক জানান, শিক্ষার্থীদের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে ভাড়া মওকুফ করতে রাজি তারা। কিন্তুরংপুর শহরের অধিকাংশ এলাকায় যেহেতুমেস মালিক সমিতি নেই তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত মেস মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা।

মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে কয়েকজন মেস মালিক জানান,ঋণ নিয়ে এসব মেস বানিয়েছি।আমাদের তো ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাদের উপার্জনের বিকল্প উপায় নেই। মেস ভাড়ার ওপর নির্ভর করে তাদের সংসার চলে। মেস ভাড়া মওকুফ করলে পরিবার কীভাবে চলবে।