কখনো মাথায় আসেনি আমি খারাপ খেলতে পারি: তাসকিন

দেশের ক্রিকেটে রাজার মতো আবির্ভাব হয়েছিল তার। দলে থিতু হতে না হতেই তারকাখ্যাতি। তাসকিন আহমেদের মতো আবির্ভাব বোধ হয় দেশের অন্য ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে ঘটেনি।

তবে প্রথম দুই বছর স্বপ্নের মতো কাটলেও মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতেও সময় লাগেনি ডান হাতি পেসারের। চোটের সঙ্গে লড়াই, বাজে ফর্ম। সব মিলে ২০১৮ সালের পর আর জাতীয় দলের জার্সিটাই গায়ে জড়ানো হয়নি ২৫ বছর বয়সী পেসারের।

তাসকিন বলছেন, নিজের প্রতি যত্ন কমিয়ে দেওয়া ও একটু উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়াটাই কাল হয়েছে তার জীবনে। জাতীয় দলে ব্রাত্য পড়ে থেকে যার মাশুল গুনছেন দিনের পর দিন। নিজের জীবনের এই অধ্যায় থেকে আগামীর তারকাদের শিক্ষা নিতেও সাজেশন দিচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ফেইসবুক লাইভে যুক্ত হয়েছিলেন তাসকিন। সঙ্গে ছিলেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। সেখানেই তাসকিন এসব কথা বলেন।

তামিম ইকবাল প্রশ্ন রেখেছিলেন তাসকিনের প্রতি। ক্যারিয়ার শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই মুদ্রার দুই পিঠই দেখা হয়ে গেছে। এনিয়ে তাসকিন ভাবনা কি?

তাসকিন বলেন, ‘প্রথম বছরটা খুবই ভালো ছিল। যেখানেই খেলছিলাম, ভাল খেলছিলাম। যেখানেই যাই, সবাই ছেঁকে ধরছে, ছবি তুলতে চাইছে। দ্বিতীয় বছর থেকে, বিশ্বকাপে যাওয়ার আগেই অনেকগুলো এনডোর্সমেন্ট (পৃষ্ঠপোষক), আসর পর অনেকগুলো এনডোর্সমেন্ট (পৃষ্ঠপোষক)। সব মিলে অন্যরকম অনুভূতি। মনে হচ্ছে খেললেই ভালো খেলব। ভালোই খেলতেছিলাম। মাথায় আসেই নাই কখনো আমি খারাপ খেলতে পারি। বা আমার ইনজুরি হতে পারে।’

এরপর নিজের প্রতি যত্ন কমিয়ে দেওয়া। পারফরম্যান্স পড়ে যাওয়া। তাসকিন বলছিলেন, ‘প্রথম দুই বছরও সিরিয়াস ছিলাম। তৃতীয় বছর থেকে যখন এই জিনিসটা মাথায় আসল- যে ভালই তো খেলছি, দলেও মোটামুটি জায়গা পাকা। তো আস্তে আস্তে ওই জিনিসটা আসতে শুরু করল। আমি নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া কমিয়ে দিয়েছি। সব মিলিয়ে জীবন একটু উচ্ছৃঙ্খল হয়েছে। আস্তে আস্তে পারফরম্যান্স ডাউন হয়েছে, এরপর দল থেকে বাদ পড়েছি।’

২০১৪ সালে জাতীয় দলে অভিষিক্ত তাসকিন দেশের হয়ে সবশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালের মার্চে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে কান্নায় চোখ ভাসিয়েছিলেন। এই পেসারের নিজেকে নিয়ে উপলব্ধি, ‘শেষ ২ বছরে বেশ কয়েকবার সুযোগ পেয়েছি। তবে ম্যাচ খেলতে পারিনি। আরও উন্নতি করতে হবে অবশ্যই আমি জানি।’

নবীনদের প্রতি তাসকিনের বার্তা, ‘তরুণ যারা আসছে, তারা যাতে এই ভুলটা না করে। দুই-তিনটা বছর ভালো পারফর্ম করার পর যাতে সিরিয়াসনেসটা আরও বাড়ে।’

তাসকিন কথা শেষ করেন এভাবে, ‘আল্লাহ যা করেন ভালর জন্যই করেন, আমি ক্যারিয়ারের আগেভাগেই শিক্ষা পেয়েছি।’