বাসায় বসে ঈদ-শপিং

করোনার ঝুঁকিতে কমবেশি সবাই। এরই মধ্যে আসছে পবিত্র ঈদ। আনন্দময় এ সময় এবার হয়তো ঘরেই কাটাতে হবে। তাই বলে ঈদের কেনাকাটা বাদ থাকবে কেন। ঘরে বসে বা বাইরে গিয়ে কেনাকাটার সময় কিছু বিষয় মেনে চলুন। বিস্তারিত জানালেন ফারাহ বিলকিস

কেনাকাটা অনলাইনে

ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য অর্ডার করলে সময়মতো পৌঁছে যাচ্ছে কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তাই করোনা মহামারীর এ সময়ে ঈদের কেনাকাটা করুন অনলাইনে। এখন কমবেশি সব পণ্যই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। তাই ঘরে বসে পছন্দমতো পণ্য অর্ডার করতে পারেন। আর কেনাকাটা করার সময় যে জিনিসটি কিনছেন, রিভিউ বিভাগে গিয়ে মতামতগুলো পড়ে নিন। বিভিন্ন সাইটে গিয়ে পণ্যের দাম যাচাই-বাছাই করে নিন। ঈদ উপলক্ষে অনেক ধরনের অফার চলছে। তবে বিশেষ অফার দেখেই পণ্য কমফার্ম করবেন না। অফারে অনেক সময় পণ্যের মান ভালো নাও হতে পারে। অরিজিনাল পণ্য আর রেপ্লিকা পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পছন্দের পণ্য কিনুন। প্রয়োজনে ইনবক্সে পণ্যের আসল ছবি পাঠাতে বলুন। আগেই টাকা পাঠাবেন না, পণ্য হাতে পেয়ে তারপর মূল্য পরিশোধ করুন। পরিবর্তন করার বা ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়মগুলো জেনে নিন। কত দিনের মধ্যে আপনাকে ডেলিভারি দেবে, তাও ভালোভাবে জেনে নিন।

এ ছাড়া যে ওয়েবসাইট বা ফেইসবুক পেজ থেকে পণ্যটি কিনবেন, তাদের কোনো অফিস বা দোকান আছে কি নাযাচাই করে নেবেন। তারা ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (Ecab)-এর সদস্য কি না, যদি সদস্য হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের সদস্য নম্বর থাকবে। বিকাশ মার্চেন্ট অথবা কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে তাদের ওয়েবসাইটে লাগানো আছে কি না। Comodo Sectigo SSL (https) ওয়েবসাইটে লাগানো আছে কি না। উপরিউক্ত ধাপগুলো যদি কারও থাকে, তাহলে আপনি নির্ভয়ে পণ্য কিনতে পারেন। উপরিউক্ত প্রত্যেকটি ধাপের জন্য ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া ডেলিভারি ম্যানের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নেওয়ার সময় মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস পরে নেবেন। পণ্যের প্যাকেট খুলে ফেলে দেবেন। আর ফেলা সম্ভব না হলে প্যাকেটের গা সাবান পানি দিয়ে ভালো করে মুছে নেবেন। তারপর নিজের হাত ধুয়ে নেবেন।

শপিং মলে সাবধানতা

শপিং মলে কেনাকাটা করতে গেলে রিকশা, ট্যাক্সি ইত্যাদি যানবাহনের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কারণ, আপনি যেটিতে চড়ে যাতায়াত করছেন, সেটি কিছুক্ষণ আগে হয়তো কোনো আক্রান্ত রোগীকে বহন করেছে। মানুষের ভিড়ে, শপিং মলের এসি, টয়লেট, লিফট, ফুডকোর্ট, টাকা-পয়সা লেনদেনের সময় সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। আপনি ট্রায়ালের জন্য যে পোশাকটি গায়ে তুলেছেন, সেটিও হয়তো কিছুক্ষণ আগে কোনো করোনা রোগী ট্রায়াল দিয়ে থাকতে পারেন। দরদাম করে কেনাকাটায় অভ্যস্ত বাংলাদেশের মানুষকে সাধারণত অনেক কথা বলতে হয়। দোকানের বদ্ধ পরিবেশে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। শপিং ও ভ্যানিটি ব্যাগের মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এমন অনেক ধরনের জিনিশ আছে যেটা তিন ফুট দূরত্ব রেখে আপনার পক্ষে কেনাকাটা করা সম্ভব নয়। যেমনজুতা কিনতে গেলে বিক্রয়কর্মীর সংস্পর্শে আসতে হবে। তার মাধ্যমে আপনি সংক্রমিত হতে পারেন। এ ছাড়া শপিং ব্যাগ, প্যাকেট থেকে ঝুঁকি রয়েছে।

মার্কেটে কেনাকাটা করতে গেলে সঙ্গে স্যানিটাইজার রাখুন। ফেইস মাস্ক ব্যবহার করুন। যেকোনো কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন। বাড়ি ফিরে গোসল করে নিন। পরিধেয় পোশাক জীবাণুমুক্ত ও অন্যান্য ব্যবহৃত সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করে নিন। দল বেঁধে পরিবারের সবাইকে না নিয়ে একজন যান। করোনা মহামারী চলাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সশরীরে কেনাকাটা না করে অনলাইনে শপিং করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে থাকা মানেই পুরো পরিবারকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলা।

কাঁচাবাজারে সতর্কতা

অনলাইনেও কাঁচাবাজার করতে পারেন। আর যেতে চাইলে প্রতিদিন কাঁচাবাজার না করে সপ্তাহে এক দিন করুন। কাঁচাবাজার করতে যাওয়ার সময় অবশ্যই সঠিকভাবে ও মানসম্মত মাস্ক পরবেন। চশমা অথবা সানগ্লাস পরা উত্তম। সম্ভব হলে হাতে গ্লাভসও পরতে পারেন। বাসায় বাজার আনার পর তা এমন জায়গায় প্রথমে রাখতে হবে, যেন সেই জায়গাটা সাবান দিয়ে মোছা বা ধোয়া যায়। পরিধেয় কাপড় ও জুতা এমন স্থানে খুলে রাখতে হবে, যাতে তা বাসায় পরার কাপড়ের সংস্পর্শে না আসে। পারলে সঙ্গে সঙ্গে কাপড় সাবান পানিতে পাঁচ মিনিট ডুবিয়ে রেখে কেচে নিতে হবে। এরপর গোসল করতে হবে। অপচনশীল বাজার যেমনআলু, পেঁয়াজ, চাল, আটা, বিস্কুট ইত্যাদি গোছানোর ক্ষেত্রে বাজারগুলাকে আলাদা করে সাত দিনের জন্য এমন স্থানে রাখতে হবে, যাতে তা কেউ সাত দিনের আগে স্পর্শ বা ব্যবহার না করে। পচনশীল বাজার তরল দুধের প্যাকেট, বাটার, শসা, লাউ, পটোল, কলা, কমলা, আপেল ইত্যাদি ২০ সেকেন্ড সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখার পর তা পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে সাবানমুক্ত করতে হবে। এরপর তা মুছে বা শুকিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। পাতলা প্যাকেটযুক্ত জিনিস, যা সাবান পানিতে ডোবানো যায় না; তা সাবান পানিতে ভেজা কাপড় দিয়ে প্যাকেটের ওপর ভালোভাবে মুছে প্যাকেটটি ছিঁড়ে পরিষ্কার পাত্রে রেখে দিতে হবে। মাছ, মাংস, শাক ইত্যাদি বালতির মধ্যে ঠান্ডা পানিতে দুই থেকে তিন মিনিট ডুবিয়ে রাখার পর পানির মধ্যে নেড়েচেড়ে ভালোভাবে ধুতে হবে, যাতে পানি না ছিটে যায়। এভাবে পরিষ্কার হবে কিন্তু করোনাভাইরাসমুক্ত হবে না। এরপর সাবধানে সরাসরি রান্নার পাত্রে নিয়ে রান্না করতে হবে। আর রান্না না করলে খুব অল্প পানি দিয়ে দুই মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে।

কমন স্পেসে করণীয়

করোনা মহামারীতে লিফট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সাবধানতা মেনে চলতে হবে। লিফটে ঢোকার আগে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরে থাকবেন। লিফটের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াবেন না। লিফটের বোতাম টেপার ক্ষেত্রে টুথপিক, ইয়ারবাড বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। যে জিনিসটি বোতাম টেপার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, সেটি যাতে আপনার শরীরের কোনো অংশে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। এরপর সেটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দিন। তারপর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন অথবা স্যানিটাইজার লাগান। লিফট ব্যবহারের পাশাপাশি আপনি যদি সিঁড়ি ব্যবহার করেন, সে ক্ষেত্রেও কিছু নিয়মবিধি মেনে চলা আবশ্যক। সিঁড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যাতে সিঁড়ির রেলিংগুলোতে আপনার স্পর্শ যেন না লাগে। কারণ, অজান্তে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি রেলিং স্পর্শ করে থাকলে তা থেকে আপনিও সংক্রমিত হতে পারেন। তবে ভুলবশত আপনি যদি রেলিং স্পর্শ করেন, তবে অন্য কোথাও স্পর্শ না করে অতি দ্রুত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।