চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এলাকা ভিত্তিক। শুক্রবার রাত পর্যন্ত করোনাভারাসে সংক্রমিত ২০৭ জন রোগী শনাক্ত হন। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলারই ২৭ জন। বাকি রোগীদের বেশির ভাগ চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া এলাকার। এ ছাড়াও পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহর বৃত্ত এলাকার মধ্যেও রয়েছে করোনা রোগী।
নারায়ণগঞ্জফেরত তিন ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটে সাতকানিয়া উপজেলায়। আর চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর, সরাইপাড়া এবং পাহাড়তলী কাছাকাছি এলাকা।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমরা সাতকানিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশপথের সংযোগ এলাকা পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহর এলাকাকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
গত ২৫ মার্চ থেকে চট্টগ্রামে করোনা রোগী শনাক্ত করার পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে প্রথম যে রোগী শনাক্ত হন তার বাড়ি দামপাড়া এলাকায়। সৌদিফেরত মেয়ের মাধ্যমে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হন। পরে পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির ছেলের শরীরেও ভাইরাস পাওয়া যায়। এরপর সাতকানিয়া, পাহাড়তলী, সরাইপাড়া ও হালিশহরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে, নগরের সাগরিকায় ১০ জন, পাহাড়তলীতে ৫ জন, সরাইপাড়ায় ৩ জন ও হালিশহরে ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় সম্পৃক্ত চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, আগে চট্টগ্রামের তিনটি এলাকায় করোনার প্রাদুর্ভাব ছিল। সর্বত্র এই ভাইরাস ছড়াতে পারেনি। কারণ, প্রশাসন দক্ষ হাতে 'লকডাউন' কার্যকর করতে পেরেছিল। 'লকডাউন' এখন শিথিল। তাই 'গোষ্ঠী সংক্রমণ' হচ্ছে। দিনের পর দিন করোনা রোগী বাড়তে থাকবে। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর প্রথম ৪০ দিনে ১০৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হন। পরের চারদিন তথা ৪৪তম দিনে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২০৭ হয়। গোষ্ঠী সংক্রমণের কারণে রোগী বাড়ছে।