কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু এলাকায় ধানক্ষেতে পানি জমেছে। এতে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সিঅ্যান্ডবি আঁচুয়া এলাকার নিচু জমির ধান তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বাসুদেবপুর, সারাংপুর, রামনগর, শাহাব্দিপুর, কাদিপুর বিল এলাকায় কয়েকশ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ধান কাটার শ্রমিকও পাচ্ছেন না তারা। পাকা ধান কীভাবে কাটবেন এ নিয়ে চিন্তিত কৃষক।
আবার এসব এলাকায় অনেকে কোনোমতে আধা পাকা ধান কাটলেও অতিবৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত রোদের অভাবে শুকাতে পারছেন না। এমনকি মাড়াই করা ধানের খড়ও শুকাতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এসব এলাকায় অনেক আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য খাঁড়ি (নালা) ছিল যা অবৈধ স্থাপনার কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তা উদ্ধার করলে বা নতুন খাঁড়ি তৈরি করলে এর স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ২৬ হাজার কৃষক ১৩ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। সবে মাত্র ধান কাটা শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া বোরো ধান কেটে বাড়িতে আনতে তিন গুণ পরিশ্রমের পরও সোনালি ফসল ঘরে তুলতে উপজেলার শত শত কৃষককে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হঠাৎ করে বৃষ্টির কারণে কেটে রাখা ভেজা ধান ঘরে তোলা ও ধান মাড়াই করে শুকাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া যে সব এলাকায় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে তা নিরসন না হলে চোখের সামনেই নষ্ট হবে শত শত বিঘা জমির ধান।
আঁচুয়া এলাকার কৃষক আনিসুর রহমান, জাফর বলেন, এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ করে জমি সমতল করায়। আঁচুয়া তালতলার উঁচু এলাকা থেকে নিচের দিকে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এবং কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাদের জমির আধা পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এ জন্য ধান কেটে নিচ্ছেন। এতে করে ফলন কম হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা আরও বলেন, কয় দিন আগেও জমিতে পানি ছিল না, এখন হাঁটু সমান পানি, এ জন্য কেউ ক্ষেতে ধান কাটতে আসে না। নিজের ক্ষেতের ধান নিজেই কাটেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যে সব এলাকার জমিতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, সেসব এলাকায় কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি সিঅ্যান্ডবি আঁচুয়ার নিচু জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।’