পবিত্র রমজানে রোজা রাখা ফরজ। কিন্তু কোনো নারী যদি গর্ভবতী হন, তাহলে তার রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তাছাড়া এবারের রমজান অন্য রমজান মাসের তুলনায় পুরোপুরি আলাদা। কারণ আমরা করোনাভাইরাসের আতঙ্ক ও ঝুঁকিতে আছি। তাই বাড়াতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, খেতে হবে অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার। আর গর্ভবতী নারীকে নিতে হবে বিশেষ সাবধানতা। গর্ভাবস্থায় রোজা রাখলে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
সাহরি ও ইফতারে ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। কারণ গর্ভবতী নারীদের অনেকেরই গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানি, ভাত, মাছ, মাংস, ডিম ও শাকসবজি খেতে হবে। ইফতারে অবশ্যই লেবু বা অন্য ফলের শরবত, ফলমূল খাওয়া যাবে। সাহরি থেকে ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে আড়াই লিটার পানি পান করতে হবে। যদি পানি পান করতে সমস্যা হয়, তবে পানীয় জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে। ভিটামিন-সি-যুক্ত খাবার খেতে হবে, তাতে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। সাহরি ও রাতের খাবারে শাকসবজি, মাছ, মাংস থাকতে হবে। তাতে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।
আরও কয়েকটি জরুরি বিষয় জেনে রাখতে হবে-
গর্ভের সন্তান ২৪ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ বার নড়াচড়া করলে বুঝতে পারবেন সন্তান ভালো আছে।
মায়ের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড হরমোনের পরীক্ষা করে দেখতে হবে মা ভালো আছেন কি না।
করোনার উপসর্গ যেমন জ্বর, হাঁচি-কাশি, শরীর দুর্বল ইত্যাদি কোনো সমস্যা থাকলে হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করবেন বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন। গর্ভবতী মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘরে থাকবেন অনাগত সন্তানের মঙ্গলের জন্য এবং শারীরিক যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।