বাগেরহাটের চিতলমারীতে এবার ঢাকা থেকে ফেরা পোশাক শ্রমিক দম্পতির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চরচিংগুড়ি গ্রামে গিয়ে ওই বাড়িসহ আশপাশের ১১টি বাড়ি অবরুদ্ধ ঘোষণা করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছে।
আক্রান্ত দম্পতির শরীরে উপসর্গ না থাকায় বাড়িতে রেখেই তাদের চিকিৎসা দেবে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগ ওই দম্পতির সংস্পর্শে আসা পরিবারের শিশুসহ দশজনের নমুনা সংগ্রহ করছে।
সোমবার ঢাকার ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় এই দম্পতির শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই দম্পতির বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পোশাককর্মী এই দম্পতি গত ৯ মে ঢাকা থেকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন।
পরদিন ওইখানের প্রতিবেশীরা তাদের ফেরার বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে জানালে টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠায়।
পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই সোমবার বিকেলে তারা টুঙ্গিপাড়ার ওই আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি চিতলমারীতে চলে আসেন। গতকাল সোমবার ল্যাবের পরীক্ষায় এই দম্পতির শরীরে করোনা পজিটিভ হয়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে আক্রান্ত ওই বাড়িটিসহ আশপাশের ১১টি বাড়ি অবরুদ্ধ করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছি।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান সকালে এই প্রতিবেদককে জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই দম্পতিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এদের শরীরে করোনাভাইরাসের যেসব উপসর্গ থাকার কথা তার কোনটাই নেই। তারা দুজনই সুস্থ স্বাভাবিক রয়েছেন। তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। এই দুজনের সংস্পর্শে আসা শিশুসহ দশজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য খুলনার ল্যাবে পাঠানো হবে।