ধান কাটা শ্রমিকের সংকট নেই আছে দাম নিয়ে শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন পুরোদমে চলছে ইরি-বোরো ধান কাটা। এ পর্যন্ত চাঁপাইনবাগঞ্জের ২০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। গত বছর ধান কাটতে কৃষি শ্রমিক নিয়ে চাষিরা বেকায়দায় পড়লেও এবারের চিত্র ভিন্ন। এ বছর জেলায় কৃষি শ্রমিকের কোনো সংকট নেই। তবে ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় আছেন চাষিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানিয়েছে, এবার মৌসুমের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ কৃষি উপকরণে সমস্যা না হওয়ায় ফলন পাওয়া যাচ্ছে আশানুরূপ। এবার ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে মাত্র ১৬ টাকা কেজি দরে চাষিদের দেওয়ায় তা ধানের ভালো ফলনে সহায়তা করেছে। তবে, ধানের আশানুরূপ ফলনেও চাষিরা ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা করছেন।

ঝিলিম ইউনিয়নের চাষি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ধানের ফলন যার যেমন জমি তেমনি পাওয়া যাচ্ছে। কোনো জমিতে বিঘাপ্রতি ১৮ মণ তো কোনো জমিতে বিঘাপ্রতি ১৭ মণ করে পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ২০ মণও পাওয়া গেছে। তবে, ধানের ফলন পাওয়া গেলেও দাম যে কী হবে তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। কারণ ধান উঠলে দাম তো কমে যায়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বড় ধরনের দুর্যোগ না হলে ধান কাটতে এবং ফলনের কোনো সমস্যা হবে না। আর ১২-১৩ দিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যে ফলন পাওয়া যাচ্ছে তাতে এ বছর ২৫ লাখ মেট্রিক ট্রন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে চাষিদের শঙ্কা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪০ টাকা দরে কিনবে। নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে তালিকাভুক্ত চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এর বাইরে বাজারেও ধানের দাম ভালোই আছে। কাজেই কৃষকরা ধানের দাম ভালোই পাবেন।’