১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুতে সংক্রমিত হয়েছিল বিশ্বের সব দেশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছিল বলে রোগটিকে যুদ্ধের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেননি বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর সরকারপ্রধানরা। সে সময় নেওয়া সিদ্ধান্তেও দেখা যায় সদিচ্ছার ভীষণ অভাব। ওই সময় কীভাবে মহামারীকালীন জীবন চলেছে, কী নিয়ম চালু ছিল সেসব নিয়ে বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
স্প্যানিশ ফ্লু
২০২০ সালে করোনাভাইরাসের আক্রমণ শুরু হলে আরও একবার ওল্টানো শুরু হয় ইতিহাসের পাতা। আজ থেকে ১০০ বছর আগে এমনই এক বৈশ্বিক মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছিল বিশ্বের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। ইতিহাসে ভয়াবহ সেই মহামারীর নাম ‘স্প্যানিশ ফ্লু’। ১৯১৮ সালে যার প্রকোপ শুরু হয়ে চলেছিল ১৯২০ সাল পর্যন্ত। মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছিল গণহারে। আদরের সন্তানকে বিছানায় বসিয়ে রেখে মা মারা গিয়েছেন, সকালে নাশতা করে অফিসগামী বাবা মারা গিয়েছেন রাস্তাতেই, ভাই হয়তো বাজার করতে গিয়ে ফিরে এসেছে লাশ হয়ে এমন অসংখ্য করুণ গল্প আছে স্প্যানিশ ফ্লু ঘিরে। পুরো দুই বছর জুড়ে চলতে থাকা এই প্রকোপ কত মাকে সন্তানহারা করেছে, কত সন্তান বাবা-মা হারিয়েছিলেন, সে গল্প হয়তো ইতিহাসের পাতায় বিস্তারিত লেখা যাবে না কখনোই। তবু ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে, ভালো হোক, খারাপ হোক ইতিহাস মানুষকে জানায়, অতীতকে ভুলে গেলে হয় না, সেখান থেকেও বর্তমানে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু থাকে।
১৯১৮ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার কানসাসের ক্যাম্প ফান্সটনে ৫০ হাজার সেনার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মার্চ মাস নাগাদ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে ঠেকেছে। সেনারাও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বাড়ি ফেরার আশায় রয়েছে। প্রায় সবাই অবসর কাটাচ্ছে শুয়ে-বসেই। সেনাদের নিজেদের ভেতর নানা বিষয় নিয়ে গল্প হচ্ছে। একদিন হুট করে কানসাসের ফোর্ট রিলের সামরিক হাসপাতালে শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা আর নীলচে ঠোঁট নিয়ে একজন সৈন্য এসে ভর্তি হয়। জ্বর খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। কোনো সৈন্যই সে সময় বিষয়টিকে আমলে নেয়নি। সবাই যার যার মতো কাজ করতে থাকে। অবাক করা ঘটনাটি শুরু হয় কিছুক্ষণ পর। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একই উপসর্গ নিয়ে শতাধিক সৈন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। জ্বর উপসর্গ নিয়ে শুরু হওয়া সেই রোগটির নাম ছিল ‘স্প্যানিশ ফ্লু’। এটি দ্রুত ছড়ানোর অন্যতম কারণের মধ্যে ছিল পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব। একই জায়গায় অনেক সেনা একসঙ্গে থাকায় এই রোগের বিস্তার ঘটেছিল দ্রুত। সেই সৈনিকদের কাছ থেকে ছড়িয়ে যাওয়া স্প্যানিশ ফ্লুই ইতিহাসের অন্যতম মহামারী হিসেবে পরিচিত। মার্চ শেষে এপ্রিলে মার্কিন সেনারা ইউরোপে যুদ্ধের ময়দানে এলে তাদের বাহক হয় স্প্যানিশ ফ্লুয়ের ভাইরাস। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ পুরো ইউরোপে এই ভাইরাস ছড়াতে বেশি সময় লাগেনি। এই রোগের হাত থেকে সে সময় নিস্তার পায়নি পৃথিবীর কোনো দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের সেনাবাহিনীর একটি ক্যাম্পে রয় গ্রিস্ট নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। সে সময়ের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা এক বন্ধুকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন তিনি। চিঠিতে লেখা ছিল, ‘প্রায় চার সপ্তাহ আগে মহামারী শুরু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সবার মধ্যে। ক্যাম্পে সবার মনোবল ভেঙে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে সব কাজ। ফ্লুতে আক্রান্ত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর দেখা যাচ্ছে সবাই ভয়াবহ নিউমোনিয়ায় ভুগছে। এর আগে এমন কখনো হয়নি। ভর্তি হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই চোখের নিচে বাদামি দাগ পড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর দাগ কান পর্যন্ত চলে আসে। এরপর পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তখন কে শ্বেতাঙ্গ, কে শ্বেতাঙ্গ নয় সেটা বোঝা যায় না। একপর্যায়ে ভয়াবহ রকমের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কিছু সময় পর সে মারা যায়।’ ধারণা করা হয়, এই মহামারীতে যে সংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছিল, তার প্রকৃত সংখ্যা দুই বিশ্বযুদ্ধে মৃতের তুলনায় অনেক বেশি।
১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে স্প্যানিশ ফ্লুর বিস্তার আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি দিন দিন শোচনীয় আর সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছিল। সে সময় কেপটাউন হাসপাতালের প্রধান নার্স লন্ডন টাইমসের কাছে লেখা এক চিঠিতে পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছিলেন : ‘দুই সপ্তাহে ছয় হাজার মানুষের মৃত্যু হলো। কেপটাউনকে মনে হচ্ছিল মৃতের নগরী। রাস্তা থেকে মৃতদেহ তুলে নেওয়ার জন্য কাভার্ডভ্যান শহরময় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। দোকানপাট বন্ধ। ট্রেন ও ট্রাম চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। থিয়েটার ও গির্জাগুলোও সব খালি। পরিস্থিতি ছিল লন্ডনের দ্য গ্রেট প্লেগের মতো। মৃতদেহ দাফনের জন্য কোনো যাজক বা গির্জার কোনো ব্যক্তিকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেপটাউন থেকে ছয় মাইল দূরের বিশাল গোরস্থানেও কবর খোঁড়ার জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। লোকজন তাদের বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়কে সে ঙ্গ নিয়ে আসছিল। কিন্তু তারাও এত দুর্বল যে দুই কী তিন ফুটের বেশি কবর খুঁড়তে পারছিল না।’ অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এত মানুষের মৃত্যুর পরও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের তালিকা থাকলেও এই রোগে মারা যাওয়া মানুষের তালিকা করা হয়নি। তাই তাদের মৃত্যুর কষ্ট শুধু বুঝেছে পরিবারগুলোই।
স্প্যানিশ ফ্লুর উৎপত্তি
স্প্যানিশ ফ্লু শুনেই হয়তো মনে হতে পারে এই শব্দের উৎপত্তি হয়েছে স্পেন থেকে। তার মানে স্পেনই ছিল ভাইরাসের প্রধান উৎস। অথচ মজার বিষয় হচ্ছে, স্পেনে ভাইরাসের উৎপত্তি তো হয়ইনি, এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তারা কোনো পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধেও জড়ায়নি। এই নিরপেক্ষতাই ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সঙ্গে নাম জুড়ে দিয়েছে তাদের। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহসহ বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সরকার অনুমতি না দিলে সংবেদনশীল কোনো খবর প্রকাশ করা যেত না। এদিক থেকে ব্যতিক্রম ছিল স্পেন। নিজেরা নিরপেক্ষ থাকায় সংবাদমাধ্যমে তারা কোনো খবর প্রকাশে বাধ্যবাধকতা রাখেনি। এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফ্লু ছড়িয়ে পড়লেও সেই খবর সংবাদে প্রচারিত হচ্ছিল না। যার কারণে এ রোগে আক্রান্তদের সম্পর্কে সঠিক তথ্যও জানা যাচ্ছিল না। স্পেনের রাজা ত্রয়োদশ আলফানসো ও মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ভাইরাসে আক্রান্ত হলে স্পেন বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই সে খবর প্রকাশ করে। তখনই ইউরোপীয় গণমাধ্যমে এই ভাইরাসের কথা প্রথম জানা যায়। বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো চায়নি নিজ দেশের জনগণের কাছে এই ভাইরাস পরিচিত হোক তাদের নামে। স্পেনের রাজার আক্রান্তের খবর প্রকাশিত হলে দেশগুলোর সরকারপ্রধান ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে স্পেনের নাম প্রচার শুরু করে। তখন থেকেই এটি পরিচিতি পায় স্প্যানিশ ফ্লু নামে। ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল না হয়েও সে দেশে তখন মৃত্যু হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের। ইতিহাসের পাতায় দেশটির নাম যুক্ত হয়ে যায় কালো একটি অধ্যায় হিসেবে।
ফ্লু ঠেকাতে কী পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল
১৯১৮ সালের ভাইরাস বিশ্বব্যাপী সে সময় যে প্রভাব রেখে গেছে তার সঙ্গে হয়তো বর্তমান করোনাভাইরাসের সাদৃশ খুব বেশি নেই। কভিড-১৯ সম্পূর্ণ নতুন একটি রোগ। এতে বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। স্প্যানিশ ফ্লুতে ইমিউন সিস্টেম যথেষ্ট ভালো থাকা সত্ত্বেও ২০-৩০ বছর বয়সী তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় সরকারপ্রধানদের নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে বর্তমান পদক্ষেপের বেশ কিছু মিল রয়েছে। করোনাভাইরাস দমনে কী করা যায় তা জানতে স্প্যানিশ ফ্লুয়ের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে গবেষণা করে ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা। গবেষণায় জানা যায়, প্রথম দফায় আক্রমণের পর দ্বিতীয় দফায় ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রোগটি আবার ছড়ানোর পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যুক্তরাজ্যে ১৯১৮ সালের মে মাসে প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার সময় দেশটি যুদ্ধে জড়িত ছিল। যুদ্ধ নাকি রোগ কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো দ্বিধায় ছিল তারাও। পরে যুদ্ধকেই এগিয়ে রাখে দেশটি।
১৯১৯ সালে রয়্যাল সোসাইটি অব মেডিসিনের জন্য স্যার আর্থার নিউজহোম একটি প্রতিবেদন লিখেছিলেন। তাতে উঠে আসে সে সময় গণপরিবহন, সৈনিক বহনকারী পরিবহন এবং যুদ্ধ উপকরণ তৈরির কারখানার মাধ্যমে কীভাবে দাবানলের মতো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এই রিপোর্টটি প্রকাশের এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৮ সালের জুলাই মাসে রোগটি সংক্রমণের ব্যাপকতা বুঝে স্যার আর্থার মানুষকে ঘরে থাকার এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলা নিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় ব্রিটিশ সরকার সেটি প্রকাশ করেনি। স্যার আর্থারের মতে, সে সময় নিয়ম মেনে চললে মৃত্যুসংখ্যা এত বেশি হতো না। অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত। তবু তিনি সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ মনোভাব রাখেননি। বলেছিলেন, ‘জাতীয় পরিস্থিতি কখনো এমন হয় যে, সে সময় স্বাস্থ্য এবং জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়লেও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়াটাই জরুরি হয়ে ওঠে।’
স্প্যানিশ ফ্লুতে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর অল্প সময়েই হাসপাতাল রোগী দিয়ে পূর্ণ হয়ে যেত। সে সময় দেওয়ার মতো যথাযথ চিকিৎসা ছিল না বা অ্যান্টিবায়োটিকও আবিষ্কার হয়নি। সংক্রমণ ঠেকাতে সক্রিয়ভাবে লকডাউন করা হয়নি বর্তমান পরিস্থিতির মতো। তবে বেশ কিছু থিয়েটার, নাচের হল, সিনেমা হল ও গির্জা কয়েক মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিষেধ থাকা সত্ত্বেও খোলা থাকত বারগুলো। ইংল্যান্ডের ফুটবল লিগ এবং এফএ কাপ যুদ্ধের জন্য আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই মহামারীর কোনো প্রভাব খেলার ওপর পড়েনি। তবে স্থানীয় পুরুষ ও নারীদের প্রতিযোগিতামূলক খেলা বন্ধের এমনকি স্টেডিয়ামে দর্শক কম রাখার বা খেলা বাতিল করার কোনো চেষ্টাই সে সময় করা হয়নি। মহামারীতেও সেগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কিছু শহরের রাস্তা জুড়ে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছিল। কেউ কেউ জীবাণুনিরোধক মাস্ক ব্যবহার করতেন কর্মক্ষেত্রে। স্বাভাবিকভাবেই সবাই জীবনযাপন করে গেছে সে সময়। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে বার্তা দেওয়া হতো, সেগুলোর বেশির ভাগই ধোঁয়াশাপূর্ণ। বর্তমানের মতো তখনো ভুয়া খবর আর ষড়যন্ত্রতত্ত্বের ছড়াছড়ি ছিল। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে জনসাধারণের অজ্ঞতা দূর করা যায়নি সে সময়। অনেকেই ধূমপানকে সংক্রমণের প্রতিরোধ বলে মানা শুরু করেছিলেন। যার দরুন কিছু ফ্যাক্টরিতে ধূমপান না করার কঠিন নিয়ম শিথিল করে দেওয়া হয়। কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর বিষয়ে জনগণের মধ্যে সতর্কতা জানানো হয়েছিল প্রজ্ঞাপন ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে। ১৯১৮ সালের নভেম্বর মাসে ‘নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকা’র একটি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘প্রতিদিন রাতে ও সকালে নাকের ভেতরে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সকালে ও রাতে জোর করে হাঁচি দিন, এরপর লম্বা নিঃশ্বাস নিন। মাফলার পরবেন না। প্রতিদিন দ্রুতবেগে হাঁটুন এবং কাজ থেকে হেঁটে ঘরে ফিরুন। নরম খাবার বেশি খান।’
স্প্যানিশ ফ্লুতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন কোনো দেশ ছিল না। তবে মহামারীর প্রাদুর্ভাব ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় বিভিন্ন দেশের সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ছিল আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যে নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিছু জায়গায় মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। পুরো দেশেই সিনেমা হল, থিয়েটার, মনোরঞ্জনের সব স্থান বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটির অন্যান্য জায়গার চেয়ে নিউ ইয়র্ক পরিস্থিতিকে সামলেছে সবচেয়ে বেশি। আগের ২০ বছর যক্ষ্মা নিয়ে ক্যাম্পেইন চালানোর অভিজ্ঞতা এ সময় কাজে লাগানো হয়। যার কারণে এ শহরে মৃত্যুর হার ছিল সবচেয়ে কম। যদিও সিনেমা হল ও মনোরঞ্জনের অন্য জায়গাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য শহরের স্বাস্থ্য কমিশনারের ওপর বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিল। তবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় উপাসনাগুলো কোনোভাবেই বন্ধ করা যায়নি। মহামারীর শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ২৮ হাজার। ধারণা করা হয়, জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের মধ্যেই ফ্লুয়ের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। মহামারী শেষ হলেও ভাইরাস দমন করতে আরও কয়েক বছর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়। জনগণ বুঝতে পারে এটি মৌসুমি কোনো ফ্লু নয়। সচেতনতা বাড়ে সবার মধ্যে। ধীরে ধীরে একসময় প্রকোপ কমে আসে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া স্প্যানিশ ফ্লুয়ের।