করোনা সংক্রমণে চীনের পরেই ভারত

করোনা সংক্রমণের নিরিখে এখন চীনের ঠিক পরের স্থানেই রয়েছে ভারত। এখনো পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২৮১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দেশটিতে। আর চীনে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৮৪ হাজার মানুষ।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতে করোনা সংক্রমণ বড়সড় লাফ দিয়েছিল সোমবার। ওই দিন সকাল পর্যন্ত সারাদেশে ৪ হাজার ২১৩ জন সংক্রমণের শিকার হন, যা এখনো পর্যন্ত রেকর্ড।

সেই তুলনায় কম হলেও, মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হন সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৫২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৪১৫ জন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই কো-মর্বিডিটি ছিল। সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৪ হাজার ৩৮৬ জন সুস্থ হয়েছেন।

ভারতে করোনা সংক্রমণের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগই মহারাষ্ট্রে। এ রাজ্যে ২৪ হাজার ৪২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু ৯২১ জনের। গুজরাটে সংক্রমিত হয়েছেন ৮ হাজার ৯০৩ জন। তামিলনাড়ুতে করোনা ধরা পড়েছে আট হাজার ৭১৮ জনের। দিল্লিতে আক্রান্ত সাত হাজার ৬৩৯।

এ দিকে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, করোনায় বিশ্বে মোট আক্রান্ত ৪২ লাখ ৫৯ হাজার ছুঁই ছুঁই। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার। আক্রান্তে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে রাশিয়ার। যুক্তরাজ্য ও স্পেনকে টপকে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম দেশটি, ২ লাখ ৩২ হাজার।

টানা দুই দিন মৃত্যু সংখ্যা কমার পর করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ফের বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় কভিড-১৯ এ মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৯৪ জনের। তাতে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৪৬ জন, যা একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ!

চব্বিশ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও, ২১ হাজার ২০৪ জন। তাতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৭ জন, যা বিশ্বের মোট আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চার হাজার কম আক্রান্ত নিয়ে তৃতীয়স্থানে স্পেন। দুই লাখ ২৭ হাজার আক্রান্ত নিয়ে চতুর্থস্থানে যুক্তরাজ্য। দুই লাখ ২১ হাজার আক্রান্ত নিয়ে পঞ্চমস্থানে ইতালি।

মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য, ২ লাখ ৭০০ ছাড়িয়েছে। ইতালি আছে তৃতীয়স্থানে, ৩১ হাজার ছুঁই ছুঁই। প্রায় ২৭ হাজার মৃত্যু নিয়ে ফ্রান্স চতুর্থস্থানে; অল্প কয়েকজন কম মৃত্যু নিয়ে পঞ্চমস্থানে আছে স্পেন।

বাংলাদেশে বুধবার পর্যন্ত আক্রান্ত ১৬ হাজার ৬৬০ জনের, মৃত্যু হয়েছে ২৫০ জনের।