সিনেমায় ৩৫০ ‘ধর্ষণ’: চিকিৎসায় রাজি হননি নারী ডাক্তার

বড়পর্দায় মোট ৩৫০ বার ‘ধর্ষণ’ করেছেন তিনি। মদ্যপান করেননি, এ রকম ফিল্ম খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ ব্যক্তিগত জীবনে যথাসম্ভব দূরে থাকতেন সব রকম নেশা থেকে, ছিলেন একনিষ্ঠ নিরামিষাশী। এমন বৈপরীত্য ছিল বলিউডের খলনায়ক রঞ্জিতের।

আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিনেতার পারিবারিক নাম ছিল গোপাল বেদী। হিন্দি ছবির ভক্ত রঞ্জিত এতবার দেব আনন্দের ‘গাইড’ ও ‘হাম দোনো’ দেখেছিলেন যে, ছবি দুটির প্রতিটি সংলাপ তার মুখস্থ হয়ে যায়।

রঞ্জিত প্রথমে চেষ্টা করেছিলেন বিমানবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে তার প্রশিক্ষণও শুরু হয়। কিন্তু প্রশিক্ষকের মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বহিস্কৃত হন।

এ রকম এক সময়ে তার সঙ্গে আলাপ হয় রাজস্থানের কোটার বাসিন্দা রঞ্জিত সিং ওরফে রনির। বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে রনির ভালো সম্পর্ক ছিল। রনির ভরসায় মুম্বাই আসেন রঞ্জিত। সুযোগ পান মোহন সেহগলের ‘সাওন ভাদো’ ছবিতে। তার পরের বছরই দিলীপ কুমার সুযোগ দেন ‘রেশমা আউর শেরা’ ছবিতে।

দিলীপ কুমার তাকে পরামর্শ দেন নাম পাল্টানোর। নতুন পরিচয়ের জন্য তিনি বেছে নেন রঞ্জিত সিং-এর নাম। পরে বলেছিলেন, তিনি কোনোদিন ভাবতেও পারেননি এই চেহারা নিয়ে অভিনয় করবেন! রনি ওরফে রঞ্জিত না থাকলে তার অভিনেতা হওয়া হতো না।

১৯৭১ সালেই মুক্তি পায় ‘শর্মিলি’। এই ছবির প্রিমিয়ারে গিয়ে লজ্জায় প্রায় মাথা কাটা যায় রঞ্জিতের। ছেলেকে পর্দায় মেয়েদের শ্লীলতাহানি করতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা। শেষে রঞ্জিতের সহঅভিনেত্রী রাখি এসে বোঝান, তার ছেলে আসলে অভিনয় করেছেন!

ধীরে ধীরে রঞ্জিতের মা বুঝে যান, প্রতি ছবির শেষেই তার ছেলেকে পুলিশ বা নায়কের হাতে মার খেতে হবে। তিনি আত্মীয়দের সঙ্গে ছেলের ছবি দেখতে গেলে শেষ অবধি দেখতেন না। বলতেন, ছবির শেষ অংশ অন্য একদিন দেখবেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে রঞ্জিতের পরিচয় হয়ে যায় ‘রেপ কিং’ বা ‘ধর্ষণের রাজা’ বলে। এমনকি, ধর্ষণের সিকোয়েন্সে রঞ্জিতের অভিনয় ছবির ইউএসপি হয়ে দাঁড়ায়!

‘ডাকু আউর জওয়ান’ ছবি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৮ সালে। রঞ্জিতের কথায়, এই ছবিতে রীনা রায়ের সঙ্গে তার ধর্ষণ-দৃশ্য ছিল বিপজ্জনক। চারদিকে জ্বলন্ত প্রদীপের মধ্যে শুটিং করতে হয়েছিল।

রঞ্জিতের মনে পড়ে নবাগতা মাধুরী দীক্ষিতের কথাও। ১৯৮৯ সালে ‘প্রেম প্রতিজ্ঞা’ সিনেমায় মাধুরীর সঙ্গে তার ধর্ষণের দৃশ্য ছিল। শুটিংয়ের পরেও নাকি মাধুরীর আতঙ্কের ঘোর কাটেনি।

অভিনেত্রী ছাড়াও তাকে ভয় পেতেন নারীরা। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘জামানত’। ছবিতে কেউটে সাপ নিয়ে শট দিতে হয় রঞ্জিতকে। যদিও সাপের দেহ থেকে বিষবার করে নেওয়া হয়েছিল আগেই, তবু শট দেওয়ার পরে এক চিকিৎসককে ডাকা হয়, রঞ্জিতকে পরীক্ষা করার জন্য। কারণ শুটিংয়ের মধ্যে বিরক্ত সাপটি বেশ কয়েক বার ছোবল দিয়েছিল।

কিন্তু রঞ্জিতকে দেখতে হবে শুনে সেই নারী চিকিৎসক নাকি ভয়ে আসেনইনি। তার দৃশ্য এলেই নাকি সেন্সর বোর্ডের এক নারী সদস্য রাগে ও ঘেন্নায় চোখ বন্ধ করে ফেলতেন।

রঞ্জিত জানিয়েছিলেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই সব দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি কাটিয়ে ফেলেছিলেন। বরং, নায়িকার অস্বস্তি দূর করতে তিনি কানে কানে বলে যেতেন, এর পর শটে কী কী করতে হবে। মানে, কখন তার চুল ধরে টানতে হবে, কখন তার মুখকে ঠেলে সরিয়ে দিতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবনে ১২ বছর লিভ ইন করার পরে বিয়ে করেছিলেন বান্ধবী পুষ্পাকে। কিন্তু দেড় বছর যেতে না যেতেই তাকে ছেড়ে পুষ্পা চলে যান।

এর কয়েক বছর পরে রঞ্জিত পরিচালনা করেন ‘কারনামা’। সে ছবিতে নবাগতা নাজনিন ওরফে অলকাকে তিনি নায়িকা করবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু শেষ অবধি প্রযোজকের চাপে নিতে হয় অন্য নায়িকা। বাবা-মায়ের পরামর্শ ও সম্মতিতেই ১৯৮৬ সালে অলকাকে বিয়ে করেন রঞ্জিত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিয়ের পরে অন্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হননি বলে দাবি রঞ্জিতের।