একটি ‘অশুভ মহল’ দেশে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সংসদ ভবনের বাসা থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমরা দেশবাসী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে ডেঙ্গু যেন না বাড়তে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি এ সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘লকডাউন’ শিথিল করার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘করোনা মহামারীর এ সময়ে মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে বলে গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। এডিস মশা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক সচেতনতা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঘর বা বাড়ির চারপাশে যাতে পানি না জমে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি সারা দেশে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে মশক নিধনে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘লকডাউন’ শিথিল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছেন। তিনি সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যারা মনে করছেন এ সিদ্ধান্ত ভুল তাদের বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং বিশ্বের দেশের দিকে তাকিয়ে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে মৃতের সংখ্যা যেখানে ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে ৪০, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালিসহ কিছু দেশে মৃতের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। সব দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।’
দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা দেশের যেকোনো দুর্যোগে আর্তমানবতার পাশে সবার আগে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের সভানেত্রীর নির্দেশে নেতাকর্মীরা সারা দেশে অসহায় মানুষের দুর্যোগে আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা, নগদ সহায়তা, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, টেলিমেডিসিন, লকডাউন এলাকায় রাতে খাবার পৌঁছানো, ইফতার ও সাহরি বিতরণ, সবজি বিতরণসহ কৃষকদের ধান কেটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘরে তুলে দিয়েছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তাসহ প্রায় ১০ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে সারা দেশের ৫০টি জেলার ১৫০টি উপজেলায় খাদ্য সহায়তা ছাড়াও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের মধ্যে চার দফা খাদ্য বিতরণ, দুই শতাধিক সামাজিক, পেশাজীবী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছে ত্রাণ উপকমিটি। এরই মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি জীবাণুরোধক সাবান, ১০ হাজারের বেশি স্যানিটাইজার, দুই হাজারের বেশি পিপিই এবং এক শতাধিক থার্মাল থার্মোমিটার বিতরণ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দলীয় কার্যক্রম ছাড়াও সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার চার কোটি মানুষের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ৬৪টি জেলায় প্রায় দেড় লাখ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এক কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ঈদের আগে ৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল এ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন।