ক্ষুধায় দেয়াল খুঁটে খেতে চেয়েছিলেন বালোতেল্লি

স্বাস্থ্যসেবায় এগিয়ে থাকা দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে। আর করোনা সংক্রমণ এড়াতে মানুষ যা করছে তার প্রভাব পড়ছে তাদের মানসিকতায়। তেমনই এক উদাহরণ দিয়েছেন ফুটবলার মারিও বালোতেল্লি।

ইতালিতে মার্চেই কোয়ারেন্টাইন শুরু হয়েছে। এ সময়টায় ক্লাবে খেলার কারণে ব্রেসসিয়াতে ছিলেন বালোতেল্লি। আর পরিবার ছিল ইতালির অন্য শহরে। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়াতে সবাইকে নিজ নিজ স্থানে থেকে যেতে হয়েছে। দু’মাস ধরে একা থাকার ফলে মানসিক যে চাপ নিতে হচ্ছে, সেটার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন বালোতেল্লি।

করোনার প্রথম দিকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় দেয়াল খুঁটে খাওয়ার চেষ্টাও করেছেন, ‘আমি কোনো কিছু রান্না করতে পারি না। ফলে প্রথম কয়েকদিনে কার্ডবোর্ড খাওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রথম তিন দিন দেয়াল খুঁটে খাওয়ার চেষ্টা করেছি। ভাগ্যিস, এরপর খাবার আনানোর ব্যবস্থা করতে পেরেছি।’ ইন্টারনেট।

এক মাসের মধ্যে পেশাদার ফুটবলে নামতে হবে। কিন্তু নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে এখন অনেক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ইন্সটাগ্রাম সতীর্থ আলেসান্দ্রো মাত্রিকে বালোতেল্লি বলেছেন নিজের ফিটনেসের অবস্থা, ‘আমাকে এখন বল পাস দিলে প্রথমবারে ধরতে পারব না। দু’মাসে আমি বল ধরিনি। ঘরে রানিং মেশিন না থাকলে ঠিকভাবে অনুশীলন করা যায় না। তাই বেআইনি হলেও আমি কাছের পার্কে গিয়ে দৌড়েছি একটু।’

পুরোপুরি প্রস্তুত না হলেও ফুটবল খেলার জন্য তর সইছে না ইতালির হয়ে ৩৬টি ম্যাচ খেলা এই স্ট্রাইকার। কারণ, আটকে থাকতে থাকতে যে মানসিক চাপে পড়েছেন, সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় ফুটবল, ‘গত কয়েক সপ্তাহে পাগল হয়ে গেছি, কারণ আমি পুরো একা। আমার মেয়ে নেপলসে, ছেলে জুরিখে। আমার মায়ের যে বয়স, তাতে তাকে সুরক্ষিত রাখতে হয়। আমার ভাইয়েরাও তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে আছে। তাই আমি একা পড়ে গিয়েছিলাম।’