দাউদকান্দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়

দুই বছরেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণ

ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে দুই বছরেও শেষ হয়নি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মাওরাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ। আধা কিলোমিটার দূরে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাওরাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। দাউদকান্দির ‘মেসার্স ফারুক এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণকাজ পায়। এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে হেঁটে ভাড়া করা বসতবাড়িতে স্থাপিত অস্থায়ী ভবনে গিয়ে লেখাপড়া করছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল ভূইয়া বলেন, আমরা ২ বছর ধরে ভাড়া করা বসতবাড়িতে পাঠদান করাচ্ছি। ভাড়া করা বাড়িটিতে প্রয়োজনীয় কক্ষ ও আসবাবপত্র না থাকার কারণে দুটি শ্রেণির পাঠদান একটি কক্ষে করতে হচ্ছে। এতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। দুই বছর আগে দু’শর ওপরে শিক্ষার্থী থাকলেও এখন রয়েছে মাত্র ১৩০ জন। এলাবাসীর মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের মান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মেসার্স ফারুক এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে কয়েকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আব্দুল কাদের বলেন, আমি আসার আগেই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বিলও নিয়েছে ঠিকাদার। বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ করছে না। আর পিলারগুলো টেস্ট করে তারপর কাজ করা হবে।