চট্টগ্রামে ফলের তীব্র চাহিদা

ভিটামিন ‘সি’র বাজার চড়া

চট্টগ্রামের বাজারে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বেড়েই চলেছে দাম। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভিটামিন ‘সি’র কথিত কার্যকারিতা এবং রমজানকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এ জাতীয় ফল দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। অভিযান চালিয়েও প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নানা জাতের ফলের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এজন্য দাম একটু বেশি। কিন্তু জেলা প্রশাসনের দাবি, ফল ও খাদ্যদ্রব্যবাহী পরিবহন স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো ঘাটতি নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, কাজিরদেউরি, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুরসহ  বিভিন্ন ফলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাল্টা প্রতি কেজি ১৭০-২০০, কমলা আকারভেদে ডজন ২৫০-৩০০, আপেল ১৪০-১৭০ টাকা কেজি, লাল আঙুর ৪৬০-৫০০, সাদা আঙুর ২৪০-২৮০, নাটফল ২০০-২৩০, আনার ২৭০-৩২০, পেয়ারা ৬০-৮০, পেঁপে ৭০-১০০, তরমুজ আকারভেদে ১০০-২০০ টাকা পিস, হরমুজ ৮০-১৫০ ও লিচু একশ পিস ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, রোজার আগেও যে মাল্টা ৮০-৯০ টাকা কেজি কিনতে পেরেছেন এখন ১৭০ থেকে ২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত তরমুজ, আম, হরমুজ, লিচুসহ নানা ফলমূল বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও দাম নাগালের বাইরে।

বহদ্দারহাটে ফল কিনতে আসা কামরুল ইসলাম জানান, রমজানে ইফতারির সময় ফলমূল বেশি খাওয়া হয়। করোনার কারণে বেড়েছে ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় ফলের চাহিদা। এরই সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা গলাকাটা দাম নিচ্ছেন। ৯০ টাকার মাল্টা কিনতে হলো ১৯০ টাকায়; কমলার ডজনও দ্বিগুণ বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে।

বহদ্দারহাটের ফল বিক্রেতা সরফউদ্দিন জানান, সব ধরনের ফলের দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। করোনার কারণে গাড়ি চলছে না। দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে আনতে হচ্ছে। তাও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য দাম একটু বেশি।

এরই মধ্যে মাল্টার লাগামছাড়া দামের অভিযোগ পেয়ে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রামে দেশের অন্যতম বৃহৎ ফলের আড়ত ফলমুণ্ডি বাজারে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে দাম বেশি ও পণ্য মজুদ করার দায়ে আট ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। গত সপ্তাহেও নগরীর বিভিন্ন ফলের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু দামের কোনো হেরফের হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারে সব ধরনের ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বেশি নিচ্ছেন। অনেকে গোপন স্থানে কোল্ডস্টোরেজ করে ফল মজুদ করছেন। শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।’