সেতু নির্মাণ হয়নি, কথা রাখেনি কেউ

আজিজার রহমানের (৭০) আক্ষেপের শেষ নেই। এই পথে চলতে চলতে জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। চলার পথটি সহজ করতে সবাই শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন, কিন্তু কেউ কাজটি করতে পারেননি। তারপরও আজিজার রহমানের শেষ আশা, সাগরঘাটে একটি সেতু দেখে মরতে চান। শুধু আজিজার রহমানই নন, তার মতো এ ঘাটটি দিয়ে চলাচলকারী ৩০ হাজার মানুষের আজন্ম দাবিÑ সতী নদীর এ ঘাট এলাকায় একটি সেতু হোক।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শেষ প্রান্তে চন্দনপাট, পাবনাপাড়া ও পুরাতন চন্দনপাট বাজার এলাকায় ‘সাগরঘাট’-এর অবস্থান। এখানেই একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। সেতুটি নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় লোকজন জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারের উচ্চমহলে বিভিন্ন সময়ে আবেদন করলেও সবাই কথা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সাড়া মেলেনি সেটি নির্মাণের। সেতুটি নির্মাণ করা হলে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।

আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর ইসলাম অবশ্য আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর কথা মোতাবেক ৫৪ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করতে ইতিমধ্যেই সেখানে সয়েল টেস্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পিডি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের সতী নদীর সাগরঘাট নামে এই এলাকায় বাঁশের সাঁকোতে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করে আসছেন। শুকনা মৌসুমে পানি না থাকায় হেঁটেই চলে যাতায়াত। কিন্তু শুকনো এবং বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝিতে যখন কিছুটা পানি থাকে, তখনই দেখা দেয় বিশাল বিপত্তি। মালামাল মাথায় করে বহন করতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। চন্দনপাট এলাকার আমিনুল ইসলাম, শিয়ালখোয়া মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রাসেল রানা ও আবদুল কাদের বলেন, শুষ্ক মৌসুমে চলাচলে তেমন কোনো সমস্যা না হলেও বর্ষায় তাদের ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে স্কুলে যেতে হয়। লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।