প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে সব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ইউরোপের ফুটবল ক্লাবগুলো। মাঠে ফিরতে তর সইছে না খেলোয়াড় ও কোচদের। তবে মাঠে খেলা গড়ালেও আপাতত দর্শক থাকছে না। অবশ্য দর্শকহীন গ্যালারিতে ফুটবল রং হারাবে না বলে মনে করেন লিভারপুলের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তার মতে, দর্শক ছাড়াই ফুটবল অসাধারণ একটি খেলা।
করোনার প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমে আসায় শনিবার থেকে জার্মানির বুন্দেসলিগা শুরু হয়েছে। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে ছয়টি ম্যাচ। রবিবার মাঠে নামতে যাচ্ছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষের দল বায়ার্ন মিউনিখ।
জুনের দিকে শুরু হতে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। যদিও মাঠে খেলা ফেরানোর বিষয়টি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
তবে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে যেকোনোভাবে মৌসুম শেষ করতে মরিয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা যায় কি-না সে বিষয়টিও আলোচনায় রেখেছে তারা। অবশ্য এমন প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে মত দিয়েছে ছয়টি ক্লাব।
ইংলিশ লিগ শেষ হওয়াটা লিভারপুলের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিরিশ বছরের বেশি সময় পর ফের লিগ জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ক্লাবটি। দুটি ম্যাচ জিতলেই শিরোপার উল্লাসে মাতবে ক্লপের দল।
তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার পর দর্শকহীন স্টেডিয়ামে ফুটবল ফিরলে খেলাটি আকর্ষণ হারাবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিবিসি’র ফুটবল ফোকাস অনুষ্ঠানে ক্লপ বলেন, “বিষয়টা এমন নয় যে, আমরা সবাই স্টেডিয়ামের পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্য খেলাটাকে ভালোবাসি। এরই মধ্যে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাব।”
“সত্যিকারের ফুটবলটা আমরা জানি। কয়েক মাসের জন্য এভাবে খেলতে না পারার মানে এই দাঁড়াবে না, ফুটবল এখন আর অসাধারণ খেলা না। আমি খুব করেই আশা করছি, দর্শকহীন খেলা জার্মানিকে শুরু হয়েছে, ইংল্যান্ডেও শুরু হবে।”
তবে দীর্ঘ বিরতির পর খেলোয়াড়রা মাঠে ফিরলে আগের অবস্থায় নাও থাকতে পারে বলে মনে করেন লিভারপুল কোচ, “ফুটবল এই অবস্থাতেও অসাধারণ একটি খেলা। তবে আমাদের সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকা হয়তো সম্ভব হবে না। এটা দরকারও নেই। অন্যান্য দলগুলোর অবস্থা বিবেচনায় আমাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেই চলবে।”