চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শওকত হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, গত শনিবার গভীর রাতে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া বালুর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বোয়ালখালী থানার ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নিহত শওকত জাকাতের টাকা বিতরণের সময় গুলি করে একজনকে হত্যা মামলার আসামি। তিনি চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাছি মিয়ার ছেলে।
বোয়ালখালী থানার ওসি মো. আবদুল করিম জানান, গত শুক্রবার রাতে চরণদ্বীপে এক ব্যক্তির জাকাতের টাকা বিতরণের সময় দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় শওকতের গুলিতে স্থানীয় আলী মদন ও তার ছেলে মো. নাছের (৪০) গুরুতর আহত হন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাছের মারা যান। ঘটনার পর পুলিশ শওকত ও তার ভাই জসিমকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়।
ওসি আবদুল করিম বলেন, ‘আটক শওকতকে নিয়ে রাতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় তার অনুসারী সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে গুলিবিদ্ধ শওকতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১টি এলজি, ১০টি কার্তুজের খোসা, ১টি রামদা ও ১টি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ নাছির নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। যিনি নাছের হত্যায় জড়িত ছিলেন।
টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা নিহত : কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মো. সাকের (২২) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার ভোরে নয়াপাড়া নাফ নদী বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি বলছে, নিহত সাকের ইয়াবা কারবারি ছিলেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ও একটি দেশি বন্দুক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে।
সাকের উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-এইচ/৬-এর বাসিন্দা খাইরুল আমিনের ছেলে।
টেকনাফ ২ নম্বর বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, মাদকের চালান আসার সংবাদ পেয়ে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিজিবির নয়াপাড়া বিওপির একটি টহল দল নয়াপাড়া লবণের মাঠে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর সেখান দিয়ে কয়েকজন লোক বস্তা নিয়ে মিয়ানমারের ওপার থেকে নাফ নদী পার হয়ে বেড়িবাঁধে পৌঁছায়। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের থামানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করেন। কিন্তু মাদক কারবারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে বিজিবির দুই সদস্য আহত হন। পরে বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা, ১টি দেশি বন্দুক, ২ রাউন্ড কার্তুজ ও ১টি ধারালো কিরিচসহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইয়াবা কারবারি সাকেরকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকেরকে মৃত ঘোষণা করেন।