টানা এক মাস অসহায় মানুষদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করে চলেছেন এক দুদক কর্মকর্তা।
বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলা শহরে প্রতিদিন আড়াইশ' মানুষের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে সেই খাবার। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় ঘুরে ঘুরে খাবার বিতরণ করা হয়।
বগুড়া শহরে নিজ হাতে আর গাইবান্ধায় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর সহায়তায় করোনাকালে নিরন্ন অসহায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দেয়া হচ্ছে।
করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার কারণে গত ২৪ মার্চের পর থেকে দেশ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষই ঘরে থাকায় অর্থকষ্টে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় সব থেকে বেশি বিপদে পড়ে রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষগুলো। যাদের একদিন ঘরে বসে থাকলেই না খেয়ে থাকতে হয়।
ঠিক এসময়ই বগুড়া ও গাইবান্ধা শহরে প্রতিদিন ২৫০ জন দুস্থ ব্যক্তিকে খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন দুদক কর্মকর্তা ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ।
তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত৷
শুরুতে গত ১৯ এপ্রিল থেকে তিনি নিজের টাকায় বগুড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিজ হাতে ১০০ জন অসহায় মানুষকে একবেলা করে রান্না করা প্যাকেট খাবার তুলে দিতেন প্রতিদিন।
এরপর তার এই মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিষয়টি জানার পর সমাজের বিত্তবানরা তার এই উদ্যোগে শরিক হওয়া শুরু করেন। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ তার এই উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
বর্তমানে বিত্তবানদের সহায়তায় তিনি প্রতিদিন বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলা শহরের ২৫০ জন অসহায় ব্যক্তির হাতে প্যাকেট খাবার তুলে দিচ্ছেন।
গত একমাস ধরে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাথায় নিয়ে প্রতিদিন খাবারের প্যাকেট নিয়ে অলিতে গলিতে অসহায় দুস্থদের খোঁজে ঘুরছেন এই দুদক কর্মকর্তা ও তার সহযোগী স্বেচ্ছাসেবীরা।
দুদক কর্মকর্তা ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই অফিস আদালত, দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে, দিনমজুর, রিকশা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো সব থেকে অসহায় হয়ে পড়ে।
সেটা দেখে আমি অনুভব করি- ক্ষুধার জ্বালায় এই যদি মানুষই না বাঁচে তাহলে লাভ কি। এরপরই সিদ্ধান্ত নিই এইসব মানুষকে খাওয়ানোর।
তিনি জানান, গত এক মাসে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ এই একবেলা খাবার কর্মসূচির আওতায় এসেছে। তার এই কাজে আল্পনা, বিনয়, মুক্ত, নিশাত, লেলিন, সামিয়া ও সিয়াম নামে ৭ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়মিত কাজ করছেন।
তিনি নিজে হাতে প্রতিদিন বগুড়ায় বিতরণ করছেন আর তার স্বেচ্ছাসেবকরা গাইবান্ধায় বিতরনের কাজটি করছেন।
তিনি জানান, তার এই উদ্যোগে উৎসাহিত হয়ে বগুড়া এবং গাইবান্ধায় আরো বেশ কয়েকটি গ্রুপ একইভাবে খাবার বিতরণ শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী এই সংকটকালীন সময়ে সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্ববান জানিয়েছেন।