করোনাভাইরাস জয় করে ৮৫ বছর বয়সী মায়ের পর এবার সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। করোনা শনাক্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসায় ফেরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মুনতাসীর মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বাসায় ফিরেছি। এখন সুস্থ আছি।’
ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল মুনতাসীর মামুনের মা জাহানারা খানকে ধানমণ্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষার পর শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে পরদিন এপ্রিল তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই দুই দিন মায়ের সঙ্গেই ছিলেন ৬৯ বছর বয়সী মুনতাসীর মামুন। প্রথম কয়েক দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন জাহানারা খান। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আরও দুবার করোনার পরীক্ষা করে নেতিবাচক ফল আসায় গত ৮ মে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেদিনই বাসায় ফিরে আসেন জাহানারা খান।
এরইমধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ৩ মে রাতে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মুনতাসীর মামুন। পরদিন পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তার হার্টের সমস্যার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ৭ মে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
সিএমএইচের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের চিকিৎসা ও সেবায় দ্রুত সেরে উঠেছেন জানিয়ে তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার খবর জানার পর সারা দেশের মানুষ আমার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের লোকজন আমার শারীরিক অসুস্থতার সময় সার্বক্ষণিক খোঁজ নিয়েছেন। আর চিকিৎসকদের নিরলস পরিশ্রমে আমি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছি। তাদের প্রতি আমি এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। জীবিত অবস্থায় এমনটা দেখতে পাওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।’
এদিকে মুনতাসীর মামুনের স্বজনা জানিয়েছেন, অধ্যাপক মুনতাসীর ও তার মা অসুস্থ হওয়ার তার স্ত্রী ও বাসার সহকারীসহ অন্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের সবার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।