চাঁদপুরের উপকূলীয় ১৮ ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকা চাঁদপুরে দুর্যোগ মোকাবিলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই দুই দফা অনলাইনে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে।

জেলার ৩টি উপজেলার উপকূলবর্তী ১৮টি ইউনিয়নে দেয়া হয়েছে সতর্কতা। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান স্যারের নির্দেশে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দু’ দিনে দুটি প্রস্তুতি সভা করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- সারা জেলায় যতগুলো আশ্রয়কেন্দ্র আছে সবগুলো প্রস্তুত রাখার জন্য। সব উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে।

তিনি জানান, সোমবার উপকূলবর্তী ৩টি উপজেলার ইউএনও, সদরে ৮টি ইউনিয়ন, মতলব উত্তরের ৬টি এবং হাইমচরের ৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-সচিবদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছি। যে কোনো সময় মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা এবং সেখানে সামাজিক দূরত্ব রেখে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই জেলার ৮০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২০ ভাগ ধান দু’ দিনের মধ্যে কেটে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ভলান্টিয়ার টিম, মেডিকেল টিম, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া পাউবো এবং নৌ-বন্দরের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ রাখতে ডিআরআরওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা-ভারপ্রাপ্ত শাহ মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, আবহওয়া অধিদপ্তরের ১৯ নম্বর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চাঁদপুর উপকূলীয় জেলা হিসেবে ৬ নম্বরের আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, এই সংকেত অনুযায়ী যখন ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে তখন স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দকমা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।