‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছিল স্কুলিংয়ের মতো

জনপ্রিয় মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেতা এ বি এম সুমন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন অর্ক রায় সেতু

ঢাকা অ্যাটাকের অভিজ্ঞতা...

ঢাকা অ্যাটাক অনেক এক্সাইটিং একটা প্রজেক্ট আমার জন্য। সিনেমাটা করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ধকল পোহাতে হয়েছে। প্রতিদিন বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জঙ্গলে প্রায় দশ থেকে বারো কেজি ওজনের পোশাক, অস্ত্রসহ চৌদ্দ থেকে পনেরো ঘণ্টা কাজ করতে হতো। পাহাড়ে উঠতে হতো, আবার নামতে হতো। সব মিলিয়ে বলব, ডিরেক্টর দীপংকর দীপনের সঙ্গে কাজ করে যে অভিজ্ঞতাটা হয়েছে, তা খুব আনন্দের। তিনি খুব সহজে আর্টিস্টের দুর্বলতা ধরে সেই দুর্বলতাটাকে এড়িয়ে কীভাবে কাজ করতে হয়, সেটা জানেন। আমার দুর্বলতাগুলো কী, সেগুলো আমি জেনেছি ঢাকা অ্যাটাক করতে গিয়ে। অভিনয়ে আমার প্রপার স্কুলিং নেই। আমি ফিল্মে এসেও প্রপার স্কুলিং পাইনি। সবকিছু মিলিয়ে ঢাকা অ্যাটাক আমার জন্য একটা স্কুলিংয়ের মতো ছিল। মুক্তির পর মানুষ সিনেমাটি লুফে নেয়।

ক্যারিয়ারের কঠিন কাজ...

‘আদি’ সিনেমার শ্যুটিং কঠিন ছিল। বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চল থানচিতে শ্যুটিং হয়েছিল। পুরোটা সময় ভিজে কাজ করতে হতো। ফাইট সিন ছিল অনেকগুলো। সেগুলো অনেক সময় নিয়ে করতে হয়েছিল।

অভিনয় জগতে যেভাবে...

অভিনয় জগতে আসা মডেলিং থেকে। এক বছর মডেলিং করার পর আমার মনে হলো আমি ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করতে পারি। ২০১৩ সালে প্রথম একটা টেলিফিল্মে কাজ করি। এরপর একটা ধারাবাহিকে দশ পর্বে কাজ করি। তখন আমার কাছে সিনেমার প্রস্তাব আসে। ‘অচেনা হৃদয়’ ফিল্ম দিয়ে শুরু।

মডেলিংয়ে স্মরণীয়...

প্রথম অভিনয়টাই করেছি মডেলিং করতে গিয়ে। প্রথম স্টেজে উঠি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে গুরুদেব রিলিভড নামের একটা ফ্যাশন শোতে। একটা থিম ফ্যাশন শো ছিল। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা গল্পের চরিত্রে কাজ করি। চরিত্রের মতো ড্রেসআপ করে গল্পটিকে উপস্থাপন করতে হয়েছিল। আর সর্বপ্রথম ক্যামেরার সামনে আমি দাঁড়াই ইমামি ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম অনুষ্ঠানের টিভিসি দিয়ে।

অবসরে...

আমার অনেকগুলো বিড়াল আর কবুতর আছে, ওদের সঙ্গে সময় কাটাই। কিছু গাছও আছে, ওগুলোর দেখাশোনা করি। টিভিতে সংবাদ দেখা হয় অনেক। টিভি সিরিজ, সিনেমা দেখা আর বই পড়া হয়।

প্রিয় বই...

প্রিয় বই সেই সময়, পূর্ব-পশ্চিম, প্রথম আলো, দূরবীন, দ্য আলকেমিস্ট, দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অব ড. জেকেল অ্যান্ড মি. হাইড। ছোটবেলায় পড়া বইয়ের একটা গল্প ছিল, শরৎচন্দ্রের ‘মহেশ’। গল্পটা আমার এখনো মনে দাগ কেটে আছে।

লকডাউনে শরীরচর্চা...

বাসাতেই টুকটাক ব্যায়াম করছি। কার্ডিও বেশি করা হচ্ছে। যেহেতু ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না বাসায় যেসব ইকুইপমেন্ট আছে তা দিয়ে কার্ডিও করছি। করোনায় সবচেয়ে জরুরি হার্টের যত্ন নেওয়া।