আশুলিয়ার মাছুরা হত্যা

অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসায় স্ত্রীকে খুন!

ঢাকার আশুলিয়ায় গৃহবধূ মাছুরা খাতুনকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে তার স্বামী মোস্তফা মোল্লাকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা জানিয়েছেন, স্ত্রীর মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসা নিয়ে ঝগড়ার জেরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি।

র‌্যাব-১-এর একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৫ মে সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় মোখলেছুর রহমানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষ থেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ মাছুরার লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে লাশের পরিচয় না মিললেও পরে পরিবারের লোকজন মাছুরার লাশ শনাক্ত করেন। থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে, লাশ উদ্ধারের ২-৩ দিন আগেই খুনিরা মাছুরাকে  হত্যা করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে মাছুরার স্বামী মোস্তফা মোল্লা পলাতক ছিল। এই হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে নিহতের স্বামী মোস্তফাসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

র‌্যাব জানায়, মাছুরা হত্যাকা-ের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এই হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সঙ্গে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার বিসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোস্তফার বাবার নাম আবদুর রশীদ মোল্লা। বাড়ি নাটোর সদরের ইব্রাহিমপুর গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, প্রায় দেড় বছর আগে মোস্তফার সঙ্গে মাছুরা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মাছুরা পরকীয়া করে আসছিল বলে গ্রেপ্তার মোস্তফা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ১৩ মে দুপুর ১২টার দিকে মাছুরা রান্না করছিল। এ সময় তার মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। মাছুরা কথাও বলে। তখন মোস্তফা জানতে চায় কার সঙ্গে কথা বলছিল। এতে রেগে গিয়ে মাছুরা তার ফোন থেকে ওই নম্বরটি মুছে ফেলে। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর মোস্তফা বাসা থেকে বাইরে চলে যায়। পরে বিকেল ৪টার দিকে বাসায় ফিরলে দ্বিতীয় দফায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। মোস্তফা তখন তার স্ত্রী মাছুরা খাতুনকে মারধরের পাশাপাশি একপর্যায়ে গলায় মোবাইল ফোনের চার্জারের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর বাসার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে কয়েক দিন নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিক এলাকায় আত্মগোপন করে।