পাবনার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান। রমজান মাস টার্গেট করে মৌখিক চুক্তিতে দশ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলেন তরমুজ, শসা, বাঙ্গিসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল। ফলন ভালো হলেও, করোনাভাইরাসের লকডাউনে ঢাকা থেকে μেতা না আসায় পণ্য বিμি না করতে পেরে পড়েছেন চরম লোকসানের মুখে। সম্প্রতি, সরকার কৃষি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলে নতুন করে আবাদের জন্য ব্যাংকঋণের চেষ্টা করেন। তবে, বর্গাচাষি আনিসের নেই জমির দলিল, লিখিত চুক্তি করতেও রাজি নন জমির মালিক। কাগজপত্রের জটিলতা আর শর্তের বেড়াজালে ঋণ না পেয়ে আনিসের কণ্ঠে ঝড়ে পড়ে রাজ্যের হতাশা।
আনিসুর বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এবার রমজানে আমার ফসল ঢাকায় পাঠাতে পারিনি। স্থানীয় বাজারেও μেতা কম, তাই কম দামে বিμি করতে হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচই উঠবে না। করোনায় প্রণোদনার কথা শুনে কৃষিঋণ চাইতে ব্যাংকে গিয়ে শুনি আগের মতোই জমির কাগজপত্র বন্ধক দিতে হবে। জমির মালিক কাগজ দিতে চায় না, চুক্তি করতেও অনেক খরচের ব্যাপার, তাই ব্যাংকঋণ পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছি।
চাষিরা জানান, গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের অধিকাংশই আনিসুরের মতো বর্গাচাষি। কাগজপত্রের জটিলতা আর সই-স্বাক্ষরের ঝামেলা এড়িয়ে আবাদ শেষে ফসল ভাগাভাগির মৌখিক চুক্তিতেই সহজ সমাধান খোঁজেন তারা। কৃষিঋণ কিংবা প্রণোদনা পেতে কোনোমতে ব্যাংকের দরজায় পৌঁছালেও, জটিল শর্ত আর কাগজপত্রের হিসাব মেলাতেই হিমশিম অবস্থা হয় তাদের। নীতিমালার ফাঁকফোকরে প্রান্তিক চাষিদের জন্য সরকারের দেওয়া সহযোগিতা ভোগ করেন সুযোগ-সন্ধানী জমির মালিকরাই। আউশ, খরিপের মতোই করোনার কৃষি প্রণোদনায় ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনাও একই ধরনের, তাই সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে সংশয়ে প্রান্তিক চাষিরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তা ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কৃষি প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম- দুর্নীতির অতীত অভিজ্ঞতা ও জটিল শর্তের কারণে এসব সহায়তা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভূমিহীন প্রান্তিক চাষিরা। প্রকৃত চাষিদের কাছে প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছাতে বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়েছেন কৃষিবিদরা।
পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কৃ ষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, কৃষি পুনর্বাসন কমিটিতে আমার মতো কৃষি কর্মকর্তারা সদস্যসচিব হলেও তাদের কোনো ক্ষমতাই নেই। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা নিজেদের মতো করে এসব উপকরণ ভাগবাটোয়ারা করেন। ইচ্ছা থাকলেও আমরা প্রকৃত কৃষককে এসব সুবিধা দিতে পারি না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক কৃষিবিদ আজাহার আলী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রান্তিক চাষিদের কাছে প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।