প্রাথমিকভাবে করা তালিকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ২৪ হাজার ৪৮০টি বাড়িঘর ও ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, রবিশস্য, মাছের ঘের ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বরিশালে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। গাছপালা ও খেতের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা আগেভাগেই ধান কেটে নেয়ায় ধানের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সদর উপজেলায় টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। যাদের মাছের ঘের ক্ষতি হয়েছে তারাও ক্ষতিপূরণ পাবে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের মাঝে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেল জানায়, বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে ৮ হাজার ১৬০টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ ১৬ হাজার ৩২০টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ায় মাটিতে হেলে পড়ে কিছু পাকা বোরো ধান, খেতের পাট, পেঁপে, পান, কাঁচামরিচ ও মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাঁচা ঘর-বাড়ি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলায় ৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজী ও তীল পুরোটাই নষ্ট হয়েছে। এছাড়া আউশ, পেঁপে, পান, পাট ও মুগডাল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বাকেরগঞ্জের নলুয়ায় এবং ভরপাশা এলাকায় বেড়ীবাঁধ ভেঙে ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করবে কৃষি বিভাগ।