দেশের পক্ষে কথা বলায় ‌‘ভারত ছাড়তে' হুংকার

ভারতের সঙ্গে বিতর্ক থাকা তিনটি এলাকাকে নিজেদের দাবি করে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে নেপাল। এই নিয়ে দুই দেশের মাঝে চলছে উত্তেজনা। এমন সময় নিজ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির সঙ্গে গলা মেলালেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা।

১৮ মে নেপালের তরফে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। তাতে বিতর্কিত লিপুলেখ, লিমপিয়াধুরা ও কালাপানিকে নিজেদের বলে দাবি করা হয়।

মনীষা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সমর্থন করে বলেন, “আমাদের ছোট দেশেরও আত্মমর্যাদা রয়েছে।” নাম উল্লেখ না করে চীনকেও টেনে আনেন, “তিনটি দেশের একসঙ্গে বসে এই বিতর্ক মিটিয়ে নেওয়া উচিত।”

মনীষা অনেক বছর ধরেই বলিউডে টানা কাজ করছেন। এক সময় এই ইন্ডাস্ট্রির এক নম্বর অভিনেত্রীর দৌড়েও তিনি ছিলেন। সমসাময়িক প্রায় সব নামি নায়ক ও নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

বিখ্যাত কৈরালা পরিবারের মেয়ে মনীষা। তার দাদা ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। এই পরিবার থেকে আরও তিনজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

মাঝে মনীষা ক্যানস্যারে আক্রান্ত হন। সেই অসুখ সারিয়ে আবার ফিরে আসেন পুরোদস্তুর অভিনয়ে। তারপর থেকে এখনও সমান তালেই কাজ করে চলেছেন বলিউডে। এ কারণে মনীষার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা। তাদের বক্তব্য, এতদিন ভারতে বাস করে এবং বলিউডে কাজ করে মনীষা নেপালের সুরে সুর মেলাতে পারেন না। তাদের দাবি, নেপালের কাজটি ভারতের জন্য অবমাননাকর। এর জের ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে মনীষাকে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, বাকি নেপালিদের মতো নিজের দেশে ফিরে যাওয়া উচিত মনীষার। অবশ্য অভিনেত্রী মত থেকে সরছেন না।

‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচিতি পান মনীষা। তার ঝুলিতে আছে বেশ কিছু সফল সিনেমা ও পুরষ্কার। মনীষা অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হলো— বম্বে, অগ্নিসাক্ষি, ইন্ডিয়ান, গুপ্ত দ্য হিডেন ট্রুথ, কাচ্চে দাগে, কোম্পানি, এক ছোটসি লাভ স্টোরি, মন, দিল সে, আকলে হাম আকল তুম, খামোশি দ্য মিউজিক্যাল ও লজ্জা। ২০০৩ সালের পর থেকে স্বাধীনতাধারার আর্ট হাউস ও আঞ্চলিক সিনেমায় বেশি দেখা যায় তাকে। ক্যানসারের কারণে পাঁচ বছর বিরতির পর ‘ডিয়ার মায়া’র মাধ্যমে ২০১৭ সালে তিনি ফের পর্দায় ফেরেন। এরপর তাকে দেখা গেছে নেটফ্লিক্সের ‘লাস্ট স্টোরিজ’ ও বলিউডের অন্যতম শীর্ষ আয়ের ছবি ‘সঞ্জু’তে।