করোনার প্রভাবে ঈদে পর্যটকশূন্য পারকি সৈকত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকতের বেলাভূমে নেই কোনো পর্যটকের পদচারণা। করোনার প্রভাবে এই প্রথম ঈদে পর্যটক শূন্যতা দেখা দিয়েছে মিনি কক্সবাজার খ্যাত এই সৈকতে।

প্রতিবছর ঈদের সময় সৈকতের ঝাউবীথি আর হোটেল-রেস্তোঁরায় পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকতো। সেখানে এ বছর হোটেল-রেস্তোঁরাসহ পর্যটনমুখী সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ। চারদিকে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা।

এতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা। আর বেকার হয়ে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো। কোথাও নেই পর্যটকের কোলাহল। নেই আলোক সজ্জা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে চিরচেনা পারকি সমুদ্র সৈকত এখন যেন স্থানীয়দের কাছেই অচেনা লাগছে। জনমানবহীন এমন সমুদ্রসৈকত গত বিশ বছরে স্থানীয়রা দেখেনি। সৈকতের উত্তর-দক্ষিণে বালিয়ারি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৮ মার্চ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পারকি সৈকতে পর্যটকদের সমাগম নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হোটেল-রেস্তোঁরাসহ সৈকতের সকল দোকানপাট। এরপর থেকেই পর্যটক শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। পর্যটকদের ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় সরিয়ে নিয়েছে ভাসমান দোকানগুলো।

গত দু’মাস ধরে সৈকতে পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে পর্যটনমুখী পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী-কর্মচারী। এ অবস্থায় নীতিমালা করে পর্যটন শিল্পকে রক্ষায় পারকি সৈকত সচল করে হোটেল-রেস্তোঁরা খুলে দেয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।

সৈকতের হোটেল লুসাই পার্ক এন্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক তুলাশ জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর আমাদের হোটেল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চট্টগ্রাম জেলা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পর্যটন নির্ভর স্পিডবোট-দোলনা অপারেটর, ফটোগ্রাফার, ঝিনুক ব্যবসায়ীসহ ভাসমান দোকানিরা সব থেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এসব নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসার চালাবেন কিভাবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন তারা।