মেহেরপুরের গাংনীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে শুক্রবার সকালে সুন্দরী খাতুন (৪৮) নামে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘর থেকে রুস্তুম আলী নামে ৫৫ বছর বয়সী একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
স্থানীয় প্রতিবেশী কাওসার আলী জানান, তাদের পৈত্রিক বাড়ি গাংনী উপজেলার নতুন মটমুড়া গ্রামে। জীবিকার কারণে তারা গাংনী উপজেলার বামন্দী শহরের টাবুর বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী ৪ বছর ধরে বসবাস করতেন। তারা দুজনই বামুন্দী বাজারের পরিছন্নতাকর্মী ছিলেন।
প্রতিবেশী সুরাইয়া খাতুন জানান, ২৫ মে দুপুরে তাদেরকে বাজারে কাজ করতে দেখা গেছে। তারপর আর তাদের দেখা যায়নি। পরে ওদের ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে স্ত্রী সুন্দরী খাতুনের অর্ধগলিত লাশ এবং স্বামী রুস্তুম আলীকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আহত রুস্তুমকে গাংনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি জানান, পরিকল্পিতভাবেই কোনো চক্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানা যাবে কতদিন আগে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনই বলা সম্ভব না। পুলিশ রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে। তাছাড়া রুস্তুম আলী পুরোপুরি সুস্থ হলে হত্যকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকারী কারা সেটা উদঘাটন করা সহজ হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি জানান, কোনকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার কারণেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে পুলিশ একাধিক ক্লু নিয়ে কাজ শুরু করেছে।