বাংলা লেখায় বানান সচেতনতা

বানানে ভুল পরিহার করার ব্যাপারটি প্রায় পুরোপুরিই ব্যক্তিগত শিক্ষা ও আয়ত্তের ব্যাপার। ভাষা শুদ্ধ করে লেখার জন্য দরকার সামান্য আগ্রহ ও মমতা। সন্দেহপ্রবণতা বানানের দক্ষতা অর্জনে ভালো কাজ দেয়। অভিধান দেখতে দেখতে এক সময় বানান দক্ষ করে ওঠা যায়। লিখেছেন সানজিদা আফরোজ

শব্দগঠন ত্রুটি

শব্দের গঠনরীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে বানান-বিভ্রান্তি ঘটে থাকে। শুদ্ধ বানানের জন্য শব্দ বা পদগঠনের নিয়মাবলি জানা অপরিহার্য। তাই বানানের শুদ্ধাশুদ্ধি বিচারে ব্যাকরণের আলোচনা অপরিহার্য। বেশ কিছু বানান অহরহ ভুল করে থাকি। যেমন ‘উৎকর্ষ’কে ‘উৎকর্ষতা’, ‘সখ্য’কে ‘সখ্যতা’, ‘সৌজন্য’কে ‘সৌজন্যতা’ লিখি। এভাবে ‘দরিদ্রতা’ বা ‘দারিদ্র্য’ এর পরিবর্তে ভুলভাবে ‘দারিদ্র্যতা’ লেখা হয়।

শব্দ বাহুল্য

স্বাস্থ্য, স্বাগত, স্বাগতম এসব শব্দের মধ্যে ‘সু’ বা ভালো অর্থ নিহিত আছে। কাজেই এগুলোর আগে আরেকবার ‘সু’ লাগিয়ে সুস্বাস্থ্য, সুস্বাগত বা সুস্বাগতম করা বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি। ‘অশ্রুজল’ একটি অশুদ্ধ শব্দ, কেননা অশ্রু শব্দের অর্থ চোখের জল, অশ্রু’র সঙ্গে জল যোগ করলে তা হবে বাহুল্য। বহুবচনের দ্বিত্ব ব্যবহার আরেকটি বহুল ব্যবহৃত বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি। কেবলমাত্র, শুধুমাত্র এগুলোও বাহুল্য দোষে অশুদ্ধ। শুদ্ধপ্রয়োগ হবে কেবল বা মাত্র বা শুধু।

শব্দের অর্থগত বিভ্রান্তি শব্দের যথাযথ অর্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণেও সঠিক শব্দ প্রয়োগে বিভ্রান্তি ঘটে থাকে। নিমন্ত্রণপত্রে প্রায়শই লেখা হয় ‘আপনি স্বপরিবার আমন্ত্রিত’। এখানে ‘স্বপরিবার’ শব্দটি একটি ভুল প্রয়োগ। সঠিক প্রয়োগ হবে ‘আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত’। লক্ষণীয় ‘স্বপরিবার’ অর্থ নিজ পরিবার, আর ‘সপরিবার’ অর্থ পরিবারসহ।

শব্দ-সংক্ষেপ

শব্দ-সংক্ষেপ করার জন্য আগে বিসর্গ এবং অনুস্বার ব্যবহার করা হতো। আমরা এখনো নামের আগে উত্তরাধিকার সূত্রে মোহাম্মদ এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহার করে আসছি ‘মোঃ’ অথবা ‘মো:’। এখানে বিসর্গ (ঃ) হচ্ছে একটি পৃথক বর্ণ এবং কোলন (:) হচ্ছে একটি বিরাম চিহ্ন, কাজেই এগুলোর কোনোটিই শব্দ সংক্ষেপে ব্যবহৃত হওয়া সমীচীন নয়।