সরকারি কর্মচারী নিয়োগে ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবা কোটার ঠাঁই নাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, রাবিয়ানরা জেগেছে’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ভাইবা মার্কের খবর দে’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এ সময় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ইয়াকুব বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে কীভাবে মামা, চাচা, খালুর সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি হয়, তা আমরা জানি। ভাইবার নম্বর বাড়ানোর ফলে এভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই সব নিয়োগ হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেখানে আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সেখানে আবার বৈষম্য মেনে নেওয়া যাবে না।’

মলিকুলার ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘ভাইবার নম্বর ২০ থেকে ৫০ নিয়ে যাওয়ায় যাদের মামু, খালু, এমপি-মন্ত্রী আছে, তাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এজন্য তারা চুপ হয়ে আছে। দেখা যাবে, সারা বছর ঘুরাঘুরি করে চাকরি পেয়ে যাবে, আর এদিকে একজন শিক্ষার্থী সারা বছর পড়াশোনা করেও পাস করতে পারবে না। মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে হীনমন্যতায় ভুগবে। মেধাবীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে না গেলে দেশের কোনো উন্নতি হবে না। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা যেন কোনোভাবেই প্রজ্ঞাপন না হয়। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেব না।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘খুব অবাক লেগেছে, ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে অযৌক্তিকভাবে ভাইবার মার্কস বৃদ্ধির পরিকল্পনায় সারা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই নীরব হয়ে আছে। মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে সরকারের এই অদূরদর্শী ও মেধাধ্বংসী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আজ সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের আয়োজন করেছি।

‘শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া লীগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও যেমন সোচ্চার ছিলাম, ইন্টেরিমের বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলাম, এই সরকারও যদি এমন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেয়, এই সরকারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকব। অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত