নীলফামারীতে গৃহবধূ মীনার হত্যাকান্ড

শ্বশুরের নেতৃত্বে হত্যায় অংশ নেয় স্বামীসহ দুই শাশুড়ি

নীলফামারীতে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের হালিরবাজার মাস্টারপাড়া গ্রামের খ্রিস্টান গৃহবধূ মীনা রাণী ঋষি (২০) মৃত্যুর রহস্য ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে মুখে ও যৌনাঙ্গে মাটি প্রবেশ করিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মীনার শ্বশুরের নেতৃত্বে হত্যাকান্ডে অংশ নেন স্বামীসহ শ্বশুর পরিবারের লোকজন। নিহত মীনা ওই গ্রামের তিমোথীয়ো ঋষির স্ত্রী।

গতকাল শনিবার দুপুরে নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৮ মে সকালে খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার শ্বশুড়বাড়ির অদূরে হালিরবাজার সংলগ্ন এম. ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের  পেছনে পানিশূন্য একটি ডোবা থেকে মীনা রাণী ঋষির অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে এবং ২৯ মে বিকালে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নীলফামারী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাহিদ হাসানের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে নিহতের স্বামী তিমোথীয়ো ঋষি (২১), সৎ শাশুড়ি  শিউলী রাণী ঋষি (৪২) এবং কাকী শাশুড়ি মিনতী রাণী ঋষি (৩৬)।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, মীনা হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিল। দুই বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী তিমোথীয়োকে বিয়ে করে মীনা। বিয়ের পর থেকে মীনাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন তার শ্বশুর গণেশ ঋষি। এ নিয়ে প্রায়ই অশান্তি বিরাজ করত পরিবারে। শ্বশুরের বিরুদ্ধে এমন ‘অপবাদ’ দেওয়ায় মীনাকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করত স্বামী তিমোথীয়ো।

সদর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মীনা রাণীর শ্বশুর গণেশ ঋষিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’