কক্সবাজারে এক দিনে পৃথকভাবে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন কক্সবাজার শহরের পূর্ব পাহাড়তলী ইছুলুর ঘোনা এলাকার মো. এছারুল করিম (৩৫), শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার মোহাম্মদ করিম (৩০) ও টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কবিরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৫)।
সোমবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃৃথকভাবে এসব রোগীর মৃত্যু হয়। এর আগে কক্সবাজার জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৩ জন।
কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার ভোর ৫টার দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যান মো. এছারুল করিম (৩৫)। তিনি কক্সবাজার শহরের পূর্ব পাহাড়তলি ইছুলুরঘোনার বাসিন্দা। সেখানে ব্যবসা করতেন। তাদের পরিবারের তিন সদস্য করোনায় আক্রান্ত। ইতিমধ্যে এক সদস্য সুস্থ হয়েছেন। মো. এছারুল করিমের করোনা লক্ষণ দেখা দিলে তিনি নমুনা জমা দেন। রবিবার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রাতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় এবং সেখানেই তিনি সোমবার আনুমানিক ভোর ৫টা নাগাদ মৃত্যুবরণ করেন।
এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নুনিয়ারছড়ার তরুণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ করিম (৩০) করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে দুই দিন আগে তাকে হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়। তবে এখনো রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। মোহাম্মদ করিম মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার শামসুল আলম প্রকাশ শামসু মাঝির ছেলে।
একইভাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামের এক নারী মারা গেছে। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কবিরের স্ত্রী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান। এর তিন দিন আগে তার করোনার লক্ষণ দেখা দিলে রবিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজার জেলায় গত ৬১ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে ১৩ জন মারা গেছে। আজকের তিনজন সহ মোট ১৬ জন নারী-পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে সাতজন। মৃত্যু হওয়া রোগীদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১১ জন, রামুতে ১ জন, টেকনাফে ২ জন, উখিয়ায় ১ জন ও চকরিয়ার ১ জন রয়েছে।