এমপির পক্ষে, সুশান্তের বিরুদ্ধে এবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট

হবিগঞ্জর সংসদ সদস্য আবু জাহিরের পক্ষ নিয়ে সুশান্ত দাশ গুপ্ত সম্পাদিত দৈনিক আমার হবিগঞ্জের ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এমপি আবু জাহিরের পক্ষে করা ডিজিটাল নিরাপত্তার মামলায় সুশান্ত দাশ গুপ্ত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার জামিনও বাতিল করেছে আদালত। সোমবার তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক অনিরুদ্ধ ধর শান্তনু, শামীম আহমেদ, আবুল ফজল, সিদ্ধার্থ বিশ্বাস প্রমুখ ওই মানবন্ধনে অংশ নেন।   

সোমবার সকালে এমপির বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনের  প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট হবিগঞ্জ শাখা ও সচেতন নাগরিক সমাজ নামে দুুটি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে বক্তারা  সুশান্তের দৈনিক আমার হবিগঞ্জ এর ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি জানান। 
এর আগে সোমাবার সুশান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায়

হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বরখাস্ত করা হয়।
হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত চিঠিতে  জেলার সভাপতি জগদিশ চন্দ্র মোদক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসকে বরখাস্ত করা হয়।  

অপরদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জীর যৌথ স্বাক্ষরে এক চিঠিতে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্তি রায় নিরু ও সাধারণ সম্পাদক শংখ শুভ্র রায়কে একই অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়। 

এ প্রসঙ্গে সভাপতি নলিনী কান্তি রায় নিরু বলেন, এমপির পক্ষে সভার ব্যাপারে কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের অনুমতি নিয়ে করেছি। 
এমপি জাহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় পুজা উদযাপন পরিষদের কী সম্মানহানি হলো এ প্রশ্নের জবাবে বলেন ‘এটা একধরনের নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মতো। দুর্ভাগ্য যে এই বুড়ো বয়সে এ্ ধরনের চিঠি পেলাম।’  

প্রসঙ্গত সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুশান্ত দাশ গুপ্ত পহেলা বৈশাখ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকার বিভিন্ন  সংখ্যায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি আবু জাহির, ত্রাণের চাল আত্মসাতে জড়িত জেলার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

২০ মে রাত ১২টা ১৫মিনিটে  হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির বাদী হয়ে হবিগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাশ গুপ্ত, নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন, প্রতিবেদক তারেক হাবিবের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেন। 

তিনি হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের ‘আজীবন সদস্য’ আবু জাহির এমপির বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ করেন  মামলার এজাহারে ।  এরপর ২১ মে ভোর ৬টায় হবিগঞ্জ থানার পুলিশ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ অফিস থেকে সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের ভয়ে অন্য সাংবাদিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শনিবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটি হবিগঞ্জ কালিবাড়িতে এক সভা আয়োজন করে। তারা আবু জাহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সুশান্ত দাশের শাস্তি ও দৈনিক আমার হবিগঞ্জের বন্ধের দাবি করেন। সভায় বক্তারা দাবি করেন, আবু জাহির এমপি একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। তার সহযোগিতার কারণে হবিগঞ্জের  ‘সংখ্যালঘুরা মায়ের গর্ভে’ আছেন।