তিন মাসের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে প্রথমবারের মতো স্পেনে করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে এলো। সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন বলে খবর এএফপি’র।
কো-অর্ডিনেশন অব হেলথ অ্যালার্টস অ্যান্ড এমার্জেন্সিসের প্রধান ফার্নান্দো সিমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর কোন খবর পাইনি।’
তিনি আরও জানান, স্পেনে কভিড-১৯ ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।
৩ মার্চের পর থেকে স্পেনে করোনাভাইরাসে নতুন করে প্রতিদিন মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সেখানে এই প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোটায় নেমে ১৩ ফেব্রুয়ারির অবস্থায় ফিরে গেল।
সোমবার প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্পেনে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ১২৭ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
সিমন জানান, স্পেন খুব দ্রুততার সাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করে ফেলে। তবে তিনি গণ সমাবেশ বিষয়ে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ পালনে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তবে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যু সংখ্যাও বেড়ে চলছে। মোট মৃত্যু এরই মধ্যে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৬২ লাখ।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০।
দেশ হিসেবে মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ১ লাখ ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয়স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ৩৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইতালি আছে তৃতীয়স্থানে ৩৩ হাজার ৪০০ মৃত্যু নিয়ে। চতুর্থস্থানে থাকা ব্রাজিলে মৃত্যু ৩০ হাজার ছুঁই ছুঁই।পঞ্চমস্থানে থাকা ফ্রান্সে মৃত্যু ২৮ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ লাখ ৬৫ হাজার। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আক্রান্ত নিয়ে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ১৮ লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ছাড়ানো আক্রান্ত নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে ব্রাজিল।
তৃতীয়স্থানে থাকা রাশিয়ায় আক্রান্ত ৪ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। চতুর্থস্থানে আছে যুক্তরাজ্য, ২ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। পঞ্চমস্থানে আছে স্পেন ২ লাখ ৩৯ হাজার আক্রান্ত।
এ দিকে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, ২ লাখ ছুঁই ছুঁই। আক্রান্তের তালিকায় সপ্তমস্থানে আছে দেশটি। মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০।
বিশ্বজুড়ে সুস্থতার সংখ্যাও বাড়ছে। মোট সুস্থের সংখ্যা ২৭ লাখ ছুঁই ছুঁই।