ব্রিটেনকে হুঁশিয়ারি পেইচিংয়ের

হংকং ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক দিন। কিন্তু এখনো চীনের স্বায়ত্তশাসিত ওই অঞ্চলটি নিয়ে ব্রিটিশদের মাথাব্যথা একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে। সম্প্রতি হংকং নিয়ে চীন বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করলে যুক্তরাজ্য সবার আগে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে যুক্তরাজ্যের বিশেষ পাসপোর্ট দেওয়ার ঘোষণা। এই পাসপোর্টধারী হংকংয়ের বাসিন্দারা যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সমান মর্যাদা পাবেন না। বিশ্লেষকরা যুক্তরাজ্যের এমন প্রস্তাবকে সাবেকি ঔপনিবেশিক চিন্তার ফসল বলে মনে করেন।

গতকাল বুধবার পেইচিং হংকং নিয়ে যুক্তরাজ্যকে অযথা মাথা না গলাতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য হংকং ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারিতে বলা হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান পেইচিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্যকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন শীতলযুদ্ধ ও ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে সরে আসে। হংকং চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এই বিষয়টিকে তাদের সম্মান জানানো উচিত। হংকং নিয়ে হস্তক্ষেপ করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। হংকং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে বেশি কথা বললে হিতে বিপরীত হবে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এদিকে বলেছেন যে, হংকং ইস্যুতে যুক্তরাজ্য পিছু হটবে না। হংকংয়ের বাসিন্দারা চীনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য করেন জনসন। দ্য টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে জনসন বলেন, তিনি হংকংয়ের লক্ষাধিক বাসিন্দার ভিসা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রস্তাব দেবেন, যদি না চীন জাতীয় নিরাপত্তা আইনটি বাতিল করে। মূলত জনসনের এমন বক্তব্যের পরই চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রতিক্রিয়া জানায়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর আগের কয়েক মাস হংকং আন্দোলনে উত্তাল ছিল। গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা গোটা হংকংকে কার্যত অচল করে দেয়। ওই আন্দোলনে হংকংয়ের স্বার্থ বিঘিœত হচ্ছে এমন কারণ দেখিয়েই পেইচিং হংকংয়ের নিরাপত্তায় আইন পাস করেছে। চীনের দাবি, এই আইন হংকংয়ের সন্ত্রাসবাদ দমনে সহায়তা করবে। আর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, এই আইন স্বাধীনতার আন্দোলনকে দমন করতেই পাস করা হয়েছে।

হংকংয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাসিন্দা বর্তমানে ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) পাসপোর্ট বহন করে। এই পাসপোর্টের অধীনে তারা যুক্তরাজ্যে ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারে এবং ছয় মাস সময় থাকতে পারে। আরও ২৫ লাখ বাসিন্দা এই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।