সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা সøুইস গেটসংলগ্ন ১ হাজার ২৫০ মিটার রিং বাঁধটি এ বছরও ড্রেজার দিয়ে তোলা বালু দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে পানির চাপে বাঁধটি বিলীন হয়ে ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গত ২০ বছর ধরে প্রতি বছরই ফসল রক্ষার নামে এ বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে এর ব্যয় হতো ৯৯ লাখ টাকা। গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যয় বেড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বন্যাকালীন সময়ে এ বালির বাঁধ রক্ষার নামে অসাধু প্রভাবশালী একটি চক্র ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ চক্রের সঙ্গে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু ঠিকাদাররা জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ চক্রটি গত ২০ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করে।
তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্থানীয়দের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ কাজে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি। শিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের ফসল রক্ষার্থে গত ২০ বছর ধরে অস্থায়ীভাবে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও করা হয়েছে। এ বাঁধের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ৩১ মে পর্যন্ত। তা এখনো টিকে আছে। আগামী আরও ১৫-২০ দিন টিকবে। এর মধ্যে সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি অস্থায়ী বাঁধ, তাই প্রবল পানির চাপে ও অতিমাত্রার বন্যায় এটা ভাঙবেই।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার আলতাব হোসেনকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ সাইট দেখার কাজে নিয়োজিত আবদুস সামাদ ফকির বলেন, ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে বাঁধটির নির্মাণকাজ গত মার্চে শুরু হয়। এপ্রিলের শেষদিকে কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে বাঁধ রক্ষায় নিয়মিত মেরামত কাজ চলছে। ফসল ওঠার আগে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাঁধের গোড়া দিয়ে পানি লিকেজের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে কোনো অসুবিধা হবে না।
অন্যদিকে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর বাঁধটির নির্মাণকাজ অনেক দুর্বল হয়েছে। ফলে ফসল খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা দ্রুত ধান কাটতে কৃষককে ১০টি অটো হারভেস্টর মেশিন দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসী এ বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছে।