সড়কে ফসল মাড়াই, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ধান ও ভুট্টা কেটে, মাড়াই শেষে ধান ও খড় শুকানো হতো কৃষকের বাড়ির আঙিনা অথবা উঠানে। কিন্তু এসব কাজ এখন হচ্ছে ব্যস্ততম সড়ক-মহাসড়কের ওপর। জমি থেকে ধান ও ভুট্টা কেটে এখন স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সড়কে। এতে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে বাড়ছে ঝুঁকি, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে যানবাহনগুলো চলছে ঝুঁকি নিয়ে। গত মঙ্গলবার পার্বতীপুর মধ্যপাড়া-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ভুট্টা-ধান মাড়াই ও ধান-ভুট্টার খড় শুকানোর দৃশ্য দেখা যায়। পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলদিবাড়ী গ্রামের ধান শুকানোর কাজ করতে থাকা মোকছেদ আলি (৩৫) বলেন, ধান ও খড়গুলো শুকানো কঠিন হয়ে পড়েছে খোলা জায়গা না থাকায়। সে জন্য পাকা সড়কে ধান শুকাতে হচ্ছে। অল্প সময়েই সড়কে ধান শুকানো যায়।

পার্বতীপুর মধ্যপাড়া-রংপুর মহাসড়কের হরিরামপুর ইউনিয়নের ভালিকাবাট গ্রামের পাকা রাস্তার ওপর মেশিন বসিয়ে চলছিল ভুট্টা মাড়াই। এ সময় কথা হয় ধান মাড়াই কাজে ব্যস্ত নুর আলমের (৪১) সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে তো গৃহস্থের ধান-ভুট্টা মাড়াইয়ের জন্য অনেক খোলা জায়গা ছিল। এখন তা নেই। গ্রামের প্রায় সবাই রাস্তার ওপরে ভুট্টা-ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে।

বাসচালক আসাদুল হক জানান, ফুলবাড়ী থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছাতে তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। এর মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। মহাসড়কটি ধান ও খড় শুকানোয় নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চলানো যাচ্ছে না।

হাবড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান বলেন, ‘রাস্তায় ধান, ভুট্টা মাড়াই ও খড় শুকানোয় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল আর অটোরিকশাগুলো।

পার্বতীপুর শহরের মোটরসাইকেল চালক রেজবাউল ইসলাম টুকুন (৩৯) বলেন, সড়কগুলোতে ধান মাড়াই ও শুকানোর সময় চলা কঠিন হয়ে যায়। এসব শুকানোয় রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে থাকায় একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মোখলেছুর রহমান বলেন, সড়কে ধান মাড়াই ও ধান-খড়-ভুট্টা শুকানোর কাজ চলছে। মানবিক কারণে কিছু বলা যাচ্ছে না।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, সড়কের ওপর ভুট্টা, ধান মাড়াই, ধান, খড় শুকানোসহ খড়ের গাদা শিগগিরই বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাড়ির আঙিনায় ধান শুকানো নিরাপদ।