করোনা: একদিনে গোটা ইউরোপ থেকে বেশি মৃত্যু যুক্তরাজ্যে

ইউরোপের অন্যান্য দেশে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে যুক্তরাজ্যে। একদিনেই গোটা ইউরোপ থেকে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দেশটিতে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিবিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৫৯ জন মারা গেছেন। ইউরোপের বাকি সব দেশ মিলিয়ে মারা যান ৩১৪ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুসারে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৮১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৯ হাজার ৮১১ জন।

মৃতের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পরেই যুক্তরাজ্যের অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুসহ ৫০ হাজারের অধিক মানুষ মারা গিয়েছেন দেশটিতে, এমন পরিসংখ্যান দিয়েছে ব্রিটিশ পরিসংখ্যান দপ্তর।

এদিকে দেশটির জনস্বাস্থ্য দপ্তর পিএইচই'র এক জরিপে কভিড-১৯ সংক্রমণে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জরিপে বলা হয়, বিশেষত বয়স্ক মানুষ ও পুরুষদের করোনাভাইরাসে মারা যাবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এরপর বলা হচ্ছে, বয়স ও লিঙ্গ বাদ দিলে কভিড-১৯ রোগে মারা যাবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি হচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের।

জরিপটির মূল বক্তব্যে আরো বলা হয়, কিছু পেশা যেমন নিরাপত্তা রক্ষী, ট্যাক্সি বা বাস চালক, স্বাস্থ্য কর্মী, সমাজকর্মী- তাদের করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, কৃষ্ণাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি দেখা যায়।

তাদের মতে, এই দুটি স্বাস্থ্য সমস্যাই তাদের কভিড সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হবার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয়দের মধ্যে যারা করোনাভাইরাসে মারা গিয়েছেন তাদের মধ্যে আগে থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি ছিল।