সার্কিট হাউজ মাঠকে প্রাচীরে ঘেরার তৎপরতা

রাজনীতি এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ ময়দান। পাশেই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় আর প্রাচীন জয়নুল উদ্যান। ক্রীড়াপল্লীর প্রায় অর্ধশতাধিক ক্লাব দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। আবার বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও বিবেচনা করা হয় এ মাঠকে।

কিন্তু সাম্প্রতি সময়ে এই মাঠকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বসানো ও মাঠের চারপাশে প্রাচীর তৈরির জন্য সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন। তবে প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নগরবাসী। একপক্ষ এ সৌন্দর্যবর্ধনে সায় দিলেও অন্যপক্ষ প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। করোনাকালেও তারা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখছেনÑ সার্কিট হাউজে ম্যুরাল হোক, দেয়াল নয়। অনেকে লিখছেনÑ ‘নো ওয়াল, নো বেড়া, মাঠ থাকুক বৃক্ষে ঘেরা।’

১৬ একর জমির সার্কিট হাউজ মাঠকে ঘিরে মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গত ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান মাঠের নান্দনিকতা বৃদ্ধি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ম্যুরাল স্থাপনের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল আলম বিভাগীয় প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে প্রাচীর দিয়ে সার্কিট হাউজ মাঠকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। তারা মাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যহানির বিভাগীয় প্রশাসনের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে মানববন্ধন করেছেন। গত ৩ জুন বিশুদ্ধ ময়মনসিংহবাসীর ব্যানারে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠেই এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী সার্কিট হাউজ মাঠে খেলেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়িয়েছেন রামচাঁদ গোয়ালা, সাইফুল ইসলাম, সানোয়ার হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ অনেক ক্রীড়াবিদ।

কৃত্রিমতায় সার্কিট হাউজ মাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ মারুফ হোসেন, ‘সারা বিশ্বময় মাঠ সংস্কার করা হচ্ছে। মাঠের ঐতিহ্য ইতিহাস বজায় রেখেই সংস্কার হচ্ছে। আর আমাদের এখানে হচ্ছে উল্টো। প্রাচীরঘেরা সার্কিট হাউজ মাঠ আমরা চাই না।’ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ রকম নেচারাল ওপেন ফিল্ডকে অবরুদ্ধ করে এর সৌন্দর্য নষ্ট করা কোনো অবস্থাতেই যুক্তিসঙ্গত নয়।’ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমি এখনো পুরো বিষয়টি ভালোভাবে জানি না। তবে কোনো অবস্থাতেই সার্কিট হাউজ মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হোক এটি আমরা চাই না।’

সমালোচিত হওয়ার পর ময়মনসিংহের নতুন বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশের বাইরে যাবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করছি না। সবকিছু ঠিক রেখেই সার্কিট হাউজ মাঠকে সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন করা হবে।’