শিক্ষাবর্ষ সংক্ষেপ করার প্রস্তাব

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় অঞ্চলভিত্তিক কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুললেও নিরাপত্তার কথা ভেবে বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে কয়েক মাস পিছিয়ে গেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম সাময়িকের মতো অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও হচ্ছে না। বছরের শেষদিকে বার্ষিক ও পাবলিক পরীক্ষা না হলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে পুরো শিক্ষাবর্ষ হারিয়ে যেতে পারে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাবর্ষটি বাঁচানোর জন্য সিলেবাস সংক্ষিপ্তকরণ, নম্বর কমিয়ে পরীক্ষাসহ নানা চিন্তা-ভাবনা করছে। এমনকি পরিবেশ পেলে শেষদিকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তিন মাস ধরে বন্ধ শ্রেণি কার্যক্রম। আগামী তিন মাসেও কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা নেই। এমনিতেই শিক্ষাসূচি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সংকট অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসূচি বলতে  কিছুই থাকবে না। সময় মতো আয়োজন করা সম্ভব হবে না পাবলিক পরীক্ষাও। গত ৩১ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই যার ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কত দিন ক্লাস বন্ধ থাকবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হবে, ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকবে। শিক্ষাবর্ষ অব্যাহত রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

এমন পরিস্থিতিতে মাত্র একটি পাবলিক পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। তাও এটি সম্ভব হবে যদি সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হয়। এরপরও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা নিয়ে কর্মকর্তাদের সংশয় কাটছে না।

নাম প্রকাশ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বিভাগের দুটি সংস্থার শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাবর্ষ বাঁচাতে ইতিমধ্যে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) শিক্ষাবর্ষ দুই মাস বাড়িয়ে সিলেবাস শেষ করে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ের ওপর পাঠদান করতে হবে। যদিও এ প্রস্তাবে সায় দেননি বেশির ভাগ কর্মকর্তা। তারা প্রস্তাবনাকে অবিবেচনাপ্রসূত মনে করছেন। কারণ হিসেবে বলছেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থেকে এমনিতেই ‘ট্রমা’তে আছে। নতুন বছরেও আগের ক্লাসে রাখা হলে তা বড় আঘাত হয়ে উঠতে পারে। এজন্য এসব কর্মকর্তা প্রয়োজনে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে সীমিত আকারে মূল্যায়ন বা পরীক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম চললেও পরীক্ষা হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। তবে শিক্ষাবর্ষ অব্যাহত রাখা ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের কাছে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা এবং শিক্ষাবর্ষ ডিসেম্বরের পর দুই মাস বৃদ্ধি করা অন্যতম।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা অন্যান্য শ্রেণিতে সহজ হলেও অষ্টম শ্রেণির ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। এই শ্রেণিতে জেএসএসি পরীক্ষা হয়। আমাদের দেশে শিক্ষার্থী মূল্যায়নের একমাত্র পদ্ধতি পরীক্ষা। তাই এটি বাতিলের সুযোগ কম। যে পথেই আমরা যাই না কেন, ঐচ্ছিক ছুটিতে একটা সমন্বয় করতে হবে। আর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দু-তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘সমাপনী বা বার্ষিক ছাড়া অন্য কোনো পরীক্ষা নিয়ে আমরা আপাতত ভাবছি না। পিইসি পরীক্ষা আয়োজনই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’