বিশ্বে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত পাঁচ মাসে রোগীর এই সংখ্যা দাঁড়াল। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম এক লাখ হয় ৬৭ দিনে। এর পরের লাখ হয় ১০ দিনে। তার পরের লাখ ৬ দিনে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে কম সময়েই বাড়তে থাকে করোনা রোগীর সংখ্যা। এপ্রিল ও মে মাসে গড়ে প্রতিদিন ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রতিদিন। জুন মাসে এসে সেই গড় সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ১৫ হাজারে। সর্বশেষ ১১ দিনেই ১৫ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
গতকাল বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে বিশ্বের ১১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ৭০ লাখ ৪ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ৪ রাখ ২ হাজার ৬৬০ জন। এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০ জন।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অতি সংক্রামক এই ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশ বা ২০ লাখ সংক্রমণ ঘটেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে। দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছে গেছে লাতিন আমেরিকা, মোট আক্রান্তের ১৫ শতাংশের বেশি ওই অঞ্চলের।
করোনাভাইরাস মহামারীতে সারা বিশ্বে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের এক-চতুর্থাংশ হয়েছে আমেরিকায়। তবে দক্ষিণ আমেরিকায়ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
রয়টার্স বলছে, নতুন করোনাভাইরাস দেখা দেওয়ার পর পাঁচ মাসে এই রোগে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধির একটি ম্যালেরিয়ায় বছরে মোট মৃত্যুর সমান।
করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায় গত ১০ জানুয়ারি চীনের উহানে। এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখে পৌঁছায় এপ্রিলের প্রথম দিকে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা তিন থেকে চার লাখে পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ২৩ দিন।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে, প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এখন ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তারা প্রাণহানিতে যুক্তরাজ্যকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে চলে যেতে পারে।
করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোর সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে রয়টার্স। তাদের ভাষ্যমতে, অনেক দেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ঘাটতি এবং কোনো কোনো দেশ হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের হিসাবের মধ্যে না আনায় করোনাভাইরাসে প্রকৃত মৃত্যুর হিসাব মেলেনি। তাদের ধরা হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হবে।