২২ মে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর মৃধার স্ত্রী। তখন সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্মিত টানবাজারের পদ্ম প্লাজার ফ্ল্যাট কমিটি তাকে নিজ বাসা থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। শুধু তাই না, ফ্ল্যাটে রাখা জামাকাপড় , ছেলেদের বইখাতা কিছুই নিতে দেয়নি ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সাহা ও তার নিয়োজিত লোকজন।
উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি চলে যান বন্দর এলাকার শ্বশুড়বাড়িতে। কিছুদিন তার করোনা নেগেটিভ হয়। সুস্থ হওয়ার পর রোববার ছেলেকে ফ্ল্যাটে পাঠান বই আনার জন্য। ছেলে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে পদ্ম প্লাজায় গেলে আবার সেই মালিক সমিতির নেতা সুব্রত বাধা দেন। ফ্ল্যাটে ঢুকতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ওই নারীর ছেলেকে।
সোমবার ফ্ল্যাট মালিকের স্বামী কাপড় ও ছেলেদের বইখাতা আনতে গেলে তাকেও বাধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিতও করেন সুব্রত সাহা ও তার নিয়োজিত লোকজন।
ছেলে পিয়াস কবির মৃধা তার ফেইসবুক পেজে অমনাবিক এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে পোস্টা দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির নেতা কর্তৃক লাঞ্ছিত হুমায়ুন কবির মৃধা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আমার স্ত্রী তার চাকরির টাকায় সিটি করপোরেশনের পদ্ম প্লাজায় কয়েক বছর আগে কিস্তিতে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। সেখানেই ৩ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছি আমরা। আমার স্ত্রীর করোনা হলে সুব্রত সাহা ও তার লোকদের চাপে বাসা ছেড়ে আসতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে আমার স্ত্রী সুস্থ হলেও আমরা আর ফ্ল্যাটে যাইনি। রোববার আমাদের ছেলেকে বইখাতা ও কিছু কাপড় আনার জন্য পাঠালে সুব্রত সাহা ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেয়নি। পরে সোমবার আমি গেলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করে। আমার ছেলে এ ব্যাপারে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে ওই ফ্ল্যাটে আমাদের যেতে কেউ বাধা দেবে না।
তিনি বলেন, সুব্রত সাহা সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর খুবই ঘনিষ্ট হিসেবে এই এলাকায় পরিচিত।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, করোনা রোগী হওয়ায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নিতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।
অভিযুক্ত সুব্রত সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওনার (হুমায়ুন মৃধা) স্ত্রী করোনা পজিটিভ ছিল। নেগেটিভ হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এ জন্য দারোয়ান ওনার ছেলেকে গেইটে দাঁড় করিয়ে আমাকে ফোন দিয়েছে। আমি ধরতে না পারায় মেয়রের পিএস আবুলকে ফোন দিয়েছে। তিনিও ফোন ধরেননি। তখন ওই ছেলে চলে গেলে সন্ধ্যায় হুমায়ুন মৃধা ও তার স্ত্রী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। তিনি বোঝাতে চাইছেন যে তিনি খুব বড় মাপের নেতা।