নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহকর্মী মারুফা আক্তার হত্যার বিচার দাবি জারি রেখেছে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো। মোহনগঞ্জ উপজেলার নারী নির্যানতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে ২০টির অধিক সংগঠন মিলিত হয়ে 'মারুফা মঞ্চ' গঠন করা হয়। বুধবার প্রতীকী অনশনের মাধ্যমে এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে মোহনগঞ্জ পৌরশহরের শহীদ মিনারে বসে তারা এ প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে।
এ সময় ঐতিহ্যবাহী পাইলটিয়ান ব্যাচ ও সামাজিক স্বেচছাসেবী সংগঠন শিশু ছায়ার সদস্যরা ব্যনারসহ এতে যোগ দিয়ে একাত্মতা জানায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন মোহনগঞ্জ সমিতির নেতৃবৃন্দও।
শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন হত্যার শিকার মারুফার মা আকলিমা আক্তার।
অনশনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আকিকুন্নেছা বিউটি, নাগরিক উন্নয়নের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা শামছুল হক মাহবুব, মানবকি মোহনগঞ্জের সভাপতি কবি রইস মনরম, সাধারণ পাঠাগারের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নান্টু, চয়নিকা মহিলা পাঠাগাররের লাইলি আরজুমান, উদিচি শিল্পীগোষ্ঠী তাহমিনা ছাত্তার, নেত্রকোনাস্থ মোহনগঞ্জ সমিতির মো. ইকবাল, সাবেক পাইলটিয়ান ব্যাচ, শিশু ছায়াসহ ২০টির অধিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ছবিতে দেখা মারুফার গায়ের জখমের চিহ্ন আর তার মায়ের বক্তব্য অনুয়ায়ী এটি একটি ধর্ষণ ও নিমর্ম হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনার সঠিক বিচার না হলে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত অনিরাপদ হয়ে যাবে।
অপরাধী আইনের আওতায় না আসা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
এ সময় দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপার্ট দিয়ে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
৯ মে বারহাট্টার সিংধা ইউপি চেয়ারম্যান কাঞ্চনের মোহনগঞ্জ বাসায় ১৪ বছর বয়সী গৃহকর্মী মারুফা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে চেয়ারম্যান নিজেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
১১ মে ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চাইলে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসীর হস্তক্ষেপে মোহনগঞ্জ থানায়
এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়।
ওই দিন রাতেই চেয়ারম্যানকে পুলিশ আটক করে ১২ মে আদালতে পাঠায়। পরবর্তীতে ১৪ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান চেয়ারম্যান।