করোনার মধ্যেও রাজশাহীতে থেমে নেই মাদকের কারবার। লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন ব্যস্ত তখনো মাদক কারবারিরা ব্যস্ত তাদের কারবারে। সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য আসাও বন্ধ হয়নি।
গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ আটক হয়েছে ২৭৮ জন। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১১টি। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে গাঁজা। এরপরই রয়েছে ইয়াবা। এ ছাড়া উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে হেরোইন, ফেনসিডিল, মদও রয়েছে।
রাজশাহী র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির তথ্য মতে, গত ২৫ মার্চ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত জেলায় মাদকের মোট মামলা হয়েছে ২১১টি। এসব মামলায় ২৭৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে মোট ২৫১ কেজি ১২৫ গ্রাম গাঁজা, ৮ কেজি ৯৯ গ্রাম হেরোইন, ২৩ হাজার ৫৫১টি ইয়াবা, ৬২৬ লিটার চোলাই মদ, ৭৬ বোতল মদ, ৩ হাজার ২২১ বোতল ফেনসিডিল ও ৫৪ ক্যান বিয়ার।
এর মধ্যে রাজশাহী মহানগর পুলিশ ১০৬টি মামলা দায়ের করছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২৭ আসামিকে। জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক মামলায় ৮৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১২ কেজি গাঁজা, ১০০ গ্রাম হেরোইন, ৬ হাজার ৬৬৬টি ইয়াবা, ৪০ বোতল মদ, ১ হাজার ২৯ বোতল ফেনসিডিল।
এ ছাড়া র্যাব-৫ এর অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৩০ কেজি গাঁজা, ৭ কেজি ৪৭০ গ্রাম হেরোইন, ১২ হাজার ৫৮টি ইয়াবা, ৫৫৯ লিটার চোলাই মদ, ৩৬ বোতল মদ, ১ হাজার ৮৫৭ বোতল ফেনসিডিল ও ৪৮ ক্যান বিয়ার। এসব ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে ৪৩টি। এসব মামলায় ৬৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে করোনাকালে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদকের কারবার থামাতে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য। রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে, এর পাশাপাশি অন্যান্য নিয়মিত ডিউটিও করতে হচ্ছে পুলিশকে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে মাদকের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক চালানোর জন্য জেলা পুলিশের কৌশলও পরিবর্তন করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।