করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসক ৮ দিন ধরে দেখলেন রোগী

রংপুরে করোনায় সংক্রমিত এক চিকিৎসক আইসোলেশনে না থেকে নমুনা দিয়েও আট দিন ধরে চেম্বারে রোগী দেখাসহ স্বাভাবিক চলাফেরা অব্যাহত রেখেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহসান হাবীব নামে ওই চিকিৎসক গত ২ জুন নমুনা দেন। গত ১০ জুন রাতে প্রতিবেদন থেকে জানা যায় তিনি করোনায় সংক্রমিত। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশনের লোকজন ওই চিকিৎসকের চেম্বার লকডাউন ঘোষণা করে।

ডা. আহসান হাবীব রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকার চাউল আমোদ গলিতে তার চেম্বার।

সিভিল সার্জন অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন ডা. আহসান হাবীব নমুনা জমা দেন। ওইদিন রংপুর থেকে ঢাকার শেরেবাংলা পিসিআর ল্যাবে ৩০০ নমুনা পাঠানো হয়েছিল। গত বুধবার রাতে প্রতিবেদন আসে। এতে ৬৪ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। ওই চিকিৎসকও শনাক্ত হন। নিয়মমাফিক নমুনা দেওয়ার পর হোম আইসোলেশনে থাকার কথা থাকলেও আহসান হাবীব বিষয়টি গোপন রেখে নিয়মিত রোগী দেখা, মসজিদে যাওয়া, ঘোরাঘুরিসহ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ রোগী দেখেছেন তিনি। এই কয়েক দিনে তিনি কয়েক হাজার মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন। গতকাল সকালেও তিনি নিজ চেম্বারে এসেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে রংপুরে সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ‘একজন ডাক্তার হয়ে এরকম করা ঠিক হয়নি। তার আইসোলেশনে থাকা উচিত ছিল। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ইবনে তাজ বলেন, নমুনা এক সপ্তাহ আগে নেওয়া হলেও গত বুধবার তার ফল এসেছে। এক দিনে তো এত রোগীর বাসভবন লকডাউন করা সম্ভব নয়। তাই বৃহস্পতিবার (গতকাল) সকালে লকডাউন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ডা. আহসান হাবীবের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ নুরুন্নবী লাইজু জানান, ডা. আহসান হাবীব রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি সেখানে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন।