বর্ষা মৌসুমের আগেই জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত দুসপ্তাহের ভাঙনে যমুনায় বিলীন হয়েছে বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ার চর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশির ভাগ এলাকা। ভাঙন চলছে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের মাইজবাড়ী, কাজলা ও কাঠমা গ্রামেও। যমুনার ভাঙনে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে নতুন ঠিকানার খোঁজে ছুটতে হচ্ছে ভাঙনের শিকার মানুষকে।
বছরের পর বছর যমুনার ভাঙনে নি:স্ব হয়ে ৩ বছর আগে মন্নিয়ার চর আশ্রয় কেন্দ্রের ১৫টি ব্যারাকে ঠাঁই হয়েছিল ৭৫টি পরিবারের। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রটিতেও। তীব্র স্রোতে ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রের বেশির ভাগ অংশ। যেটুকু অবশিষ্ট আছে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দারা। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে মন্নিয়ার চর গুচ্ছগ্রামও।
আশ্রয় কেন্দ্রের বাসিন্দা একসময়ের জোতদার মাইনউদ্দিন প্রামাণিক বলেন, ‘আমার ৭৯ বছর বয়সে কতবার যে বাড়ি ভাঙছে তার কোনো হিসেব নেই। এইপাড় থাইকা ওইপাড় যাই; ওইপাড় থাইকা এইপাড় আই। এইভাবে বাড়িঘর ভাইঙা নিঃস্ব হওয়ার পর সরকার একটা ঘর দিল। সেই ঘরে ৩ বছর থাকলাম। এইবার সেই ঘরডাও নদী নিয়া গেল। এখন আর আমাগো দাঁড়ানোর মতো কোনো জায়গা নাই।’
আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা রেজাউল করিম (৫০) জানান, ‘৩ বছর আগে সরকার একটা ঘর দিছিল। এইবার হেইডাও ভাইঙা গেল। আমাদের এখন চুলা পর্যন্ত নাই। কোনো কোনো সময় মুড়ি, বিস্কুট খাইয়া দিন কাটান লাগে। আবার কোনোদিন না খাইয়াও থাকন লাগে। এখন কই থাকমু, কই যামু চিন্তা করবার পাইতাছি না।’
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, নদী ভাঙনে আশ্রয় হারানো মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে এনে তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত অন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে ঘর খালি থাকলে তাদের সেখানে সরিয়ে আনা হবে।
এদিকে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মাইজবাড়ী, কাজলা, কাঠমা গ্রামেও ভাঙন চলছে। হুমকির মুখে রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসাসহ বেশকিছু স্থাপনা। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, মাইজবাড়ী-কাজলা এলাকায় ৩৫০ মিটার এলাকা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অস্থায়ী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই এলাকাটুকু রক্ষা করতে পারলে স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা পাবে।