টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি জমে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজারের তিনশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রায়েন্দা সদরের পাইলট হাইস্কুলের পেছন থেকে খাদ্যগুদাম এলাকায় এই তিনশ পরিবারের বসবাস।
এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘরের মধ্যে পানি জমে যাওয়ায় তাদের রান্না খাওয়ার অসুবিধা হচ্ছে। রায়েন্দা বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বলেশ্বর নদের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় পানি সরতে না পারায় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ চলায় ড্রেনের মূখ বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন স্বীকার করেছে। প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব ড্রেনের মূখ খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছে।
রায়েন্দা বাজার এলাকার বাসিন্দা আউয়াল খানসহ একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় এই পানি সরতে না পারায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি জমে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। রান্না ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্না খাওয়ায় দারুণ অসুবিধা হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুম আসলেই এই এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। ড্রেনের মূখ আটকে থাকায় প্রতিনিয়ত এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে টয়লেট, টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে নানা পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। তাদের এই নাগরিক দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের।
রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, একটি পয়েন্ট থেকে পাইপ দিয়ে পানি নামানো ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আরো একটি পাইপের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মূলত বেড়িবাঁধের সাথে ১০টি ড্রেন ধরা রয়েছে কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা এখনো নির্মাণ করছে না। এছাড়া এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বড় ড্রেন নির্মাণের প্রকল্পের কাজ করোনা পরিস্থিতির কারণে শুরু হচ্ছে না। এগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে আর এ সমস্যা থাকবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিএইচডাব্লিউ নামের চায়নার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বর্ষা মৌসুমে কাজ করে না। তাই অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে চলে গেছেন। যারা আছেন তারা আবার করোনার কারণে বের হচ্ছেন না। তারপরও আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বলেশ্বর নদের বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজ চলার কারণে রায়েন্দা বাজারের আড়াই থেকে তিনশ পরিবার বৃষ্টির পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের মূখ বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান বেড়িবাঁধের নির্মাণ করছে তাদের খুব শিগগির ড্রেনের মূখ খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।