বয়স্কদের জন্য গ্রেগ ডেইলের অনন্য উদ্যোগ

পঞ্চাশোর্ধ্ব গ্রেগ ডেইলে খবরের কাগজ বিলি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে করোনার প্রকোপের সময়টাতে ১২০ জন বয়স্ক মানুষের বাড়ি বাড়ি তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। কাজটি করছেন বিনা পারিশ্রমিকে। তার এই মানবসেবা নিয়ে লিখেছেন ওমর শাহেদ

শুরুটা হঠাৎ করেই

গ্রেগ ডেইলেকে অন্ধকার থাকতেই ঘুম থেকে উঠে পড়তে হয়। ফ্রেশ হয়ে সকালের নাশতা খেয়ে শুরু করেন দিনের কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ইস্ট উইন্ডসরে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পত্রিকা বিলি করেন। খুব সকালেই কাজটি শেষ করতে হয়। আর এই কাজটি করছেন প্রায় পঁচিশ বছর ধরে। এটি তার দ্বিতীয় পেশা। মূল পেশা হলো মুদি দোকান। সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি। এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০২ জন মানুষ মারা গিয়েছে। রোগী ২১ লাখ ৬৬ হাজারেরও বেশি। মার্চ মাস থেকে নিউজার্সিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। অধিবাসীদের নিজ বাড়িতে থাকতে রাজ্য সরকার নির্দেশ জারি করে। এরপর থেকে বদলে যায় গ্রেগ ডেইলের জীবন। অতিরিক্ত উপার্জনের কাজটি হয়ে গেল ভালোবাসার কাজ। মানুষের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। গত এপ্রিল ও মে জুড়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব গ্রেগ ডেইলে করোনাভাইরাসের কারণে খবরের কাগজ বিলি করার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছেন তার ক্রেতাদের জন্য। গ্রেগ ডেইলে হয়েছেন একশ বিশজন সিনিয়র সিটিজেনের বেছে থাকার অবলম্বন। এসব মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। এই মানুষগুলোকে সাহায্য করতে সবকিছু করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত পাঁচশবার দোকান ও তাদের বাড়িতে যাতায়াত করেছেন। একা একা গিয়ে খাবার, মুদিখানার জিনিসপত্র, প্রয়োজনীয় সবকিছু তাদের জন্য কেনাকাটা করে পৌঁছে দিচ্ছেন। এসব কিছুই করেছেন বিনাপারিশ্রমিকে। দুর্গতদের জন্য সেবা দিতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।

মনে জাগল কৌতূহল

প্রতিদিনকার মতো সেদিনও খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লেন। খবরের কাগজ বিলি করা শুরু করলেন। তবে পত্রিকা হাতে নিলেন না একজন বয়স্ক ক্রেতা নারী। তাকে অনুরোধ করে বললেন, আমার দরজার দিকে পত্রিকাটি ছুড়ে মারো। তিনি সেভাবে পত্রিকা দিয়ে চলে গেলেন। দাঁড়ানোর সময় নেই। আরও অনেক বাড়িতে পত্রিকা দিতে হবে। এর দুদিন পরের ঘটনা গ্রেগ ডেইলে সকালের কাজ সেরে দোকানে এসে মালামাল বিক্রি করছিলেন। সেই বৃদ্ধা মহিলা এলেন বাড়ির জন্য কেনাকাটা করতে। তাকে দেখেই কৌতূহল জাগল মনে মনে। আরে ব্যাপার কী? ২০ ফুট হেঁটে এসে নিজের পত্রিকাটি নেওয়ার উপায় না থাকলেও কীভাবে তিনি বাড়ির বাইরে জিনিসপত্র কিনতে এলেন? ব্যাপারটি আসলে কী? তিনি তার কাছে গেলেন। সবিনয়ে জানতে চাইলেন, ম্যাডাম আপনার কি কিছু লাগবে। আমি আপনার জন্য কী করতে পারি? কথাটি শুনে ভদ্রমহিলা খুশি হলেন এবং তালিকা এগিয়ে দিয়ে বললেন, আমাকে এই জিনিশগুলো দাও। সবকিছু গুছিয়ে এনে দিলেন গ্রেগ ডেইলে। দাম মিটিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ির পথে চলে গেলেন। গ্রেগ ডেইলে তার কাজে মন দিলেন। কতক্ষণ পরের ঘটনা। গ্রেগ ডেইলের মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অবাক হয়ে দেখেন তার সেই নারী ক্রেতা ফোন করেছেন। আরও কিছু জিনিস লাগবে কিন্তু বলতে ভুলে গেছেন। তাকে অবাক করে দিয়ে জানালেন তিনি, রাস্তার ওপারে তুমি কী কিছু জিনিস নিয়ে আসতে পারবে? কী কী লাগবে বলছি আমি। সেখানে আমার দুই প্রতিবেশী থাকেন। ক্রেতাকে অখুশি করলেন না গ্রেগ ডেইলে, সাহায্য করতে এগিয়ে গেলেন। কতক্ষণইবা লাগবে। তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলাদা আলাদা ব্যাগে ভরে দিয়ে এলেন। তারা দাম মিটিয়ে দিলেন। তবে গ্রেগ ডেইলের মধ্যে বিরাট এক পরিবর্তন হলো এ সময়।

ফেরার পথে কী ভাবছিলেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে বললেন, সম্মানিত প্রবীণদের ফ্ল্যাটগুলোর বাসিন্দাদের প্রতিদিন খবরের কাগজ পৌঁছে দিয়ে আসি। তাদের বাড়ির কাছে আমার দোকান। তারা সব সময়ই আমার দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। এই দুজন মোটে ১০০ ফিট দূরে থাকেন; এ দুজনের কেউ বাড়ি থেকে এসেও কেনাকাটা করতে পারলেন না। কেন? তাহলে বাকিদের কী অবস্থা? কেমন আছেন তারা? তাদের মধ্যে তো এদের চেয়ে আরও অসহায় বয়স্ক মানুষ আছেন। এরপর সবার জন্য মন কেঁদে উঠল গ্রেগ ডেইলের। খবরের কাগজ বিলি করার পর অবসরে কী করতে পারেন এদের জন্য, ভাবতে লাগলেন।

পাশে এলেন বন্ধু হয়ে

দুদিন পরের ঘটনা। সাড়ে চারশ পত্রিকা পৌঁছে দিয়েছেন বাড়ি বাড়ি। ক্রেতারাও খুশি পত্রিকা পড়ে তাদের সময় কাটবে। তাদের সবাইকে অবাক করে দিল পত্রিকার সঙ্গে থাকা একটা চিরকুট। তাতে একটি কথাই গ্রেগ ডেইলে লিখেছেন- জানি, এই খারাপ সময়ে বাড়ির বাইরে গেলে যখন বিপদের আশঙ্কা, তাহলে আপনাদের সবার পক্ষে প্রতিদিনের কেনাকাটা করতে বেরোনোর অসুবিধা আছে বা থাকতে পারে। বাইরের জিনিসপত্র, আমার মুদিখানার জিনিসপত্র, অর্থাৎ আপনাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যার যা প্রয়োজন আমি বিনাপারিশ্রমিকে আপনাদের ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেব। বিপদের দিনে এভাবে পাশে থাকার আগ্রহ সবার মধ্যে সাড়া ফেলল। প্রতিটি বয়স্ক মানুষই খুব খুশি হলেন। তার কাগজ বিক্রির পথে কাছে, দূরের সব ক্রেতার কাছ থেকে সাড়া পেলেন। বদলে গেল তার জীবন। সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে উঠলেন তিনি। ব্যস্ততা বেড়ে গেল। ডেইলের স্ত্রী, দুই ছেলে এবং তার শাশুড়ি সারা দিন ফোন ধরা, গ্রাহকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং কেনাকাটার তালিকা লিখে রাখতে ব্যস্ত থাকেন। গ্রেগ ডেইলে ২৪ বছরের মেয়ে ইরনি বাবার এই কাজে সহযোগী হয়ে এগিয়ে এলেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পণ্য খোঁজা ও সরবরাহের সুবিধাব্যবস্থা গড়ে তোলা। সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের এই চাহিদাপত্র। এই চাহিদাপত্রে ক্রেতার নাম, ঠিকানা; প্রয়োজনীয় ফোন নম্বরসহ যোগাযোগের উপায় চাওয়া হয়েছে। তাদের কী কী কেনাকাটা করতে হবে, কী পরিমাণ, কোথা থেকে কিনতে চান; কোন কোন দোকানে তারা কী পরিমাণ ছাড় পান, এসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এরপর চাহিদা ও জোগান মেলাতে ব্যস্ত থাকেন বাবা-মেয়ে। সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের মধ্যে তারা ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন তাদের চাহিদার জিনিসপত্র। শুধু নিজের দোকান নয় অন্যান্য দোকান থেকেও গ্রেগ ডেইলে কেনাকাটা করেন। গ্রেগ ডেইলে বলেন, বেশির ভাগ চাহিদা আমি ইমেইলে নেওয়ার চেষ্টা করি। তবে অনেক বয়স্ক ক্রেতার প্রযুক্তি ব্যবহারের সামর্থ্য বা দক্ষতা নেই। তারা ইমেইল বা মোবাইলে মেসেজও পাঠাতে পারেন না। আমার এমন অনেক ক্রেতা আছেন, যাদের চাহিদা জানতে আমাকে তাদের বাড়িতে হাজির হতে হয়। তাদের দরজা থেকে কী কী কিনতে হবে, সেগুলো নোট করে আনি এবং পৌঁছে দিই।

বদলে যাওয়া সময়

এখন গ্রেগ ডেইলের দিনের কাজ শুরু হয় সকাল ৭টায়। তিনি ও তার মেয়ে সকাল ৯টা বা তার আগে যার যা প্রয়োজন জেনে ফেলেন। এরপর এলাকার দুটি সুপার মার্কেটের যেকোনো একটিতে চলে যান। এরপর তালিকা মিলিয়ে কেনাকাটা করে ফেলেন। সুপার শপের কর্মচারীরাও তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। এক দিনের তার অভিজ্ঞতা গ্রেগ ডেইলে বললেন, সেদিন তার কেনাকাটায় কয়েক টন ফল ও শাকসবজির অর্ডার ছিল। যার অর্ধেকই কোথায় পাওয়া যাবে, তার কোনো ধারণাই ছিল না। তারপরও নানা জায়গা থেকে সেগুলো জোগাড় করে মানুষের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। পথে থাকতেই প্রতিটি বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেন আমরা আসছি। তাদের কোন কোন পণ্যে কত টাকা হয়েছে এটাও জানিয়ে দেন। এরপর জিনিসপত্র রেখে আসেন তাদের বলে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গায়, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। নির্দিষ্ট জায়গা হতে পারে ক্রেতাদের গ্যারেজ, তাদের গাড়ির পেছনের অংশ কিংবা বাড়ির দরজার সামনে। এসব জায়গা থেকে তারা পণ্যগুলো সংগ্রহ করেন। আর তাকে চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন। এভাবে গত এপ্রিল ও মে মাস গ্রেগ ডেইলে তার পত্রিকার ক্রেতাদের মধ্যে ১২০ জন সিনিয়র সিটিজেনের প্রয়োজনীয় জিনিস ও খাদ্যদ্রব্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে সব কাজ শেষ করেন। বাড়ি ফিরে ঘরের কাজ ও হিসাব-নিকাশ সব করে গুছিয়ে রাখেন। পরের দিন কাজে বের হওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন। একমাত্র ইস্টার সানডেতে কাজে যাননি। এই বয়স্ক মানুষগুলোর জন্য গ্রেগ ডেইলের খুব মমতা। তাদের ক্রেতা বলতে ভালোবাসেন না। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন তার সঙ্গে গল্প করতে চান। কারণ তারা একাকী জীবনযাপন করেন। অনেকে আবার খুব সচেতন, তারা করোনার ভয়ে বাড়ির দরজার পেছনে দাঁড়ান। দূর থেকে হাত তুলে আশীর্বাদ করেন। তাতে আমার মন ভালোবাসায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের জন্য এই কাজ আমাকে আর ক্লান্ত করে না। বরং আমাকে আরও সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার শক্তি দেয়।

অপার ভালোবাসার বাঁধন

নিয়মিত ক্রেতাদের একজন জোয়ান কোপিংগার। তিনি শ^াসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। তাই কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খুবই আশঙ্কা তার। তাই বাড়ি থেকে বেরোতে পারছেন না। তিন মাস ধরে গৃহবন্দি। একমাত্র মেয়ে রাজ্যের বাইরে থাকে। তার কাছে গ্রেগ ডেইলের এই কাজ ভালোবাসা পাঠানো ছাড়া আর কিছুই না। তিনি বলেন, গ্রেগ ডেইলে ছাড়া কীভাবে আমি মুদিখানার জিনিসগুলো পেতাম জানি না। দি ইন্সট্রার্কাটস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুদিপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটিই এত দিন পণ্য সরবরাহ করত। কিন্তু করোনার সংক্রমণের এ সময় তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এই দুর্যোগকালে সহায় হয়েছে গ্রেগ ডেইলে। সে বড় মনের মানুষ। আমি তার জন্য দোয়া করি। গ্রেগ ডেইলে আশা করেছিলেন জুনের মাঝামাঝি থেকে দোকান পুরোপুরি চালু করতে পারবেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ভালো না। দেশের কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। পুরো দেশে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও আইনি বিচারের দাবিতে উত্তাল। লুটপাটও হয়েছে অনেক। এ ছাড়া যত দিন কভিড-১৯ রোগটি হুমকি হিসেবে থাকবে, তত দিন আগের জীবনে ফিরতে পারবেন না। এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে তাকে। তিনি বলেন, শুরুতে আমি ভেবেছিলাম ধীরে ধীরে সাহায্যপ্রার্থীর সংখ্যা কমবে। কিন্তু পরিস্থিতি হয়েছে তার উল্টো। সাহায্যপ্রার্থীদের তালিকা বাড়ছে। তাদের জন্য কাজ করতে হচ্ছে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের। আমি দেখলাম অনেক মানুষ আছেন যারা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। এই মানুষগুলোর বয়স বেশি। নানা রোগে ভুগছেন। তারা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হতে চান না। তাই যতক্ষণ তারা আমার সাহায্য চাইবেন, আমি তাদের পাশে থাকব। তার এমন ভালোবাসা তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাকে নিয়ে লিখেছে, খবর প্রকাশ করেছে দেশ-বিদেশের টিভি, পত্রিকাও অনলাইন। এ ছাড়া পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ফ্লোরডিভিত্তিক এই সংগঠনটি মূলত সিনিয়র সিটিজেনদের সাহায্য ও সহযোগিতা এবং তাদের ভালো রাখার জন্য কাজ করে। এই সংগঠনটি তাদের সঙ্গে কাজ করতে অনুরোধ করেছেন গ্রেগ ডেইলেকে । সব দেখেশুনে তিনিও রাজি হয়েছেন। সংগঠনটি নিউজার্সিতে একটি শাখা খোলার পরিকল্পনা করেছে। তাদের নিয়ে কাজ করবেন, যাদের এখন সাহায্য করছেন। গ্রেগ ডেইলে বলেন, এখন সবই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে করতে হচ্ছে। তারপরও আমি তাদের খুব পছন্দের মানুষ হয়ে গিয়েছি। আমাদের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন গড়ে উঠেছে।